ইমপেরিয়াল হসপিটালের যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে ডা. দেবী শেঠি

আমি এসেছি বাংলাদেশ থেকে রোগী যাওয়া বন্ধ করতে

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ভারতের নারায়না ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি বলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার হার কমানোর লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করেছে ৩৭৫ শয্যার বেসরকারি ইমপেরিয়াল হসপিটাল লিমিটেড। এখন আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি শুধু এসেছি বাংলাদেশ থেকে রোগী যাওয়া বন্ধ করা। আমি চাই না বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাক। গতকাল শনিবার নগরীর পাহাড়তলী বিশ্বমানের ইমপেরিয়াল হাসপাতালের সেবা চালু উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পিত স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এর ফলে বাংলাদেশের রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার হার হ্রাস পাবে। দেবী শেঠি বলেন, এটি (ইমপেরিয়াল হসপিটাল) বাংলাদেশে সঠিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার নতুন সংযোজন। ভালো চিকিৎসার জন্য ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়া বাংলাদেশি মানুষের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ফলে এ প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, এ হাসপাতাল বাংলাদেশে সঠিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার নতুন সংযোজন। এটি প্রতিষ্ঠার ফলে বিদেশে বাংলাদেশি রোগী যাওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। ডা. দেবী শেঠির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে চট্টগ্রাম ইমপেরিয়াল হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ। এরই মধ্যে বিভাগটির নামকরণ করা হয়েছে ইমপেরিয়াল নারায়না কার্ডিয়াক সেন্টার। ইমপেরিয়াল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. রবিউল হোসেন বলেন, ইমপেরিয়াল-নারায়না কার্ডিয়াক সেন্টারটি ডা. দেবী প্রসাদ শেঠির তত্ত্বাবধানে পরিচালনা হবে। ভারতের নারায়না ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সের চিকিৎসক-নার্সরা এখানে সেবা দেবেন। পুরো সেন্টারটি তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। এরই মধ্যে সব ধরনের যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে।

দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, হাসপাতালের কমিশনিং কনসালটেন্ট অ্যাড লি হ্যানসন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদুল ফেরদৌস চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডা. দেবী শেঠির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইমপেরিয়াল হসপিটালের হৃদরোগ বিভাগের কার্যক্রম চলবে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রোগী নিরাপত্তা এবং কর্মী নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত একর জমির ওপর পাঁচটি ভবন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই হাসপাতাল। এর সঙ্গে আছে নার্স এবং টেকনিশিয়ানদের জন্য একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। হাসপাতালের নকশা প্রণয়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্থাপত্য সংস্থা। প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বায়োমেডিকেল বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে ইউরোপের একটি কনসালটেন্ট গ্রুপ।

হাসপাতালে পাওয়া যাবে সার্বক্ষণিক ইমার্জেন্সি সেবা। কার্ডিয়াক, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরো, অর্থোপেডিক ও গাইনি অবস বিষয়ে ১৪টি মডিউলার অপারেশন থিয়েটার আছে। আছে ১৬টি নার্স স্টেশন। ৬২টি কনসালটেন্ট রুমসহ বহির্বিভাগ এবং ৬৪টি ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড। নবজাতকদের জন্য ৪৪ শয্যার নিওনেটাল ইউনিট এবং আটটি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ আছে। রোগীর স্বজনদের জন্য হাসপাতাল পরিধির মধ্যে থাকার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষিত আছে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগীদের জন্য।

 

"