বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

শিল্পায়ন-কর্মসংস্থান বাড়বে

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সংগঠন, অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা তাদের মতামত প্রদান করেছেন। ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ সেøাগানে এবারের প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে পেশ করার পর সারা দেশে তৈরি হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। তবে এ বাজেট জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণ করবে বলে ধারণা সাধারণ মানুষের। বাজেটের পর আনন্দ মিছিল করেছে খুলনা জেলা ছাত্রলীগ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো থেকে শহীদুল ইসলাম জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে চট্টগ্রাম-ঢাকা দ্রুতগতির ট্রেন ও বে-টার্মিনাল নির্মাণ পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ। তিনি বলেন, এসএমই খাতের উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আহরণের আওতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে প্রস্তাবিত বাজেট।

প্রস্তাবিত বাজেটের কারণে বাজারে বেশির ভাগ দ্রব্যমূল্যের কোনো পরিবর্তন হবার সম্ভাবনা নেই বলেও মনে করছেন চেম্বার সহ-সভাপতি। তিনি বলেন, সাহসী এই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি অর্জন করা গেলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অব্যাহত সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি কিছু নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সরকার, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত করসীমা বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারেরও দাবি করা হয়েছে। অগ্রিম কর প্রদানের ক্ষেত্রে সীমা ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং এসএমই খাতে টার্নওভার ৩৬ লাখ থেকে ৫০ লাখে উন্নীত করা, তৈরি পোশাক শিল্পে হ্রাসকৃত করহার সুবিধা অব্যাহত রাখা, সারচার্জের ক্ষেত্রে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার সীমা ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা, দেশীয় কৃষি যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, চামড়াজাত পণ্য, গৃহস্থালি পণ্য কর অবকাশ সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব, পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ডিভিডেন্ড হতে আয়ের করমুক্ত সীমা ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

মেট্রোপলিটন চেম্বার : বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) সভাপতি খলিলুর রহমান।

সিএমসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার সাহসী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট উপহার দিয়েছেন। এটি দেশের চলমান অগ্রযাত্রায় বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাজেটে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও বন্দর উন্নয়ন খাতে আরো বেশি বরাদ্দ রাখা দরকার। ফলে দেশের শিল্পায়ন বৃদ্ধি পাবে। বৃদ্ধি পাবে কর্মসংস্থান এবং যার ধারাবাহিকতায় দেশের জিডিপি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খলিলুর রহমান বলেন, যেখানে বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা, সেখানে স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর জাতি পেয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট। এতেই বুঝা যায়, শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিতে কতটা ভূমিকা রাখছেন।

তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় বৈদেশিক সহায়তার ব্যবস্থা করে সরকারের ব্যাংক ঋণ গ্রহণ কমাতে পারলে দেশে তারল্য সংকট সৃষ্টি হবে না।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র নাছির : দেশের চলমান অগ্রযাত্রায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে গণমুখী ও দারিদ্র্যবিমোচনে কার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন।

মেয়র বলেন, এটি একটি গণমুখী বাজেট। জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়েছে এ বাজেটে। এটি একটি যুগোপযোগী বাজেট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ ধরনের একটি বাজেট দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি। এতে সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি হবে না। গণমানুষ এ বাজেটকে অবশ্যই স্বাগত জানাবে। গত বছরের বাজেট যেভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে, এবারের বাজেটও সেভাবে বাস্তবায়িত হবে। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে আমরা এগিয়ে যাব।

তিনি বলেন, প্রথম বছর রাজস্ব আদায়ে হয়তো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কর আদায় বাড়বে, যা দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক। রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় থাকা, বিনিয়োগের সঠিক পলিসি প্রণয়ন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, দেশের কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের পরিসংখ্যান নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য আমদানি অনুমোদন, ভ্যাট আদায়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ, সরকারের ব্যয়ের গুণগতমান নিশ্চিত করাÑ বাজেটে এসব বিষয় আমলে নেওয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা করি।

খুলনা থেকে আসাফুর রহমান জানান, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের বাস্তবমুখী বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগ। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫টায় আনন্দ মিছিলটি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে আবার দলীয় কার্যালয়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’Ñ সেøাগানকে ধারণ করে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাস্তবমুখী এবং কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী বাজেট প্রণয়ন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো হয়।

খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রাসেলের পরিচালনায় মিছিল এবং মিছিল পরবর্তী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান বাবু, রণবীর বাড়ই সজল, ঝলক বিশ্বাস, তরিকুল ইসলাম, শাহীন আলম, দিবাকর সাহা, আহনাফ অর্পন, জহির আব্বাস, মো. রাজু হোসেন, জোয়েব সিদ্দিকী, মশিউর রহমান বাদশা, রাশেদুল ইসলাম ও রুমান আহমেদ প্রমুখ।

 

"