ঈদ-পরবর্তী কাঁচাবাজার

কমেছে মাংসের দাম অপরিবর্তিত সবজি

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের আগে দফায় দফায় বেড়েছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম। ঈদের পর সে ক্ষেত্রে মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা কমলেও কমেনি সবজির দাম। এ ছাড়া মসলাসহ অন্যান্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।

ঈদের আগে যেসব সবজির দাম বেড়েছিল, তার মধ্যে ছিল বেগুন, শসা, পেঁপে আর মাংস, মসলা থেকে শুরু করে রমজান ও ঈদে বাড়তি চাহিদায় থাকা বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়ে। তবে ঈদের পর থেকে ক্রেতা সংকটে ভুগছে বাজারগুলো। ঈদের আগের দিন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া গরুর মাংসের দাম কমেছে বলে জানা গেছে।কেজিতে ৫০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০টাকায়। এ ছাড়া রাজধানীর বাজারগুলোতে আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগির মাংস। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২২৫ থেকে ২৩০, প্রতি পিস কক বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২৮০ টাকায়। আর দেশি মুরগি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। এ ছাড়া তুলনামূলক চাহিদা কম থাকায় খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।

এদিকে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির ঘাটতি দেখা গেছে। খুব অল্প পরিমাণে ও কম ধরনের সবজি দেখা গেছে বিক্রেতাদের কাছে। বাজারগুলোতে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, আলু ২০, কচুরলতি ৪০, করলা ৪০, পটোল ৩০, বরবটি ৪০, কাঁকরোল ৪০, ধুন্দুল ৪০, ঝিঙে, চিচিঙা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০, পেঁপে ৪০, শসা ৩০, গাজর ৩০, টমেটো ৩০, লেবু হালি মানভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকায়। শজনে ডাঁটা ৪০ টাকা কেজি, লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি লাউশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, লালশাক, পালংশাক ১০ থেকে ২০, পুঁইশাক ও ডাঁটাশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের দামেই প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি দরে। আর আদা ও রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১২০ টাকা দরে।

এ বিষয়ে মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকার এক সবজি বিক্রেতা জানান, বাজারে এখন সবজির চাহিদা খুব কম। বাজারে মূলত ক্রেতার সংখ্যাই কম। তাই সবজিও কম উঠছে। আর দাম নিয়ে তেমন কোনো দামাদামিও হচ্ছে না ক্রেতাদের সঙ্গে। কারণ দাম তাদের হাতের নাগালেই রয়েছে। আর যেহেতু বিক্রি নেই, তাই সবজি কম আনছি পাইকারদের কাছ থেকে।

মাছের চাহিদা কমায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে গড়ে ১০০ টাকা কমে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে ব্যবসায়ীদের। বাজারগুলোতে তুলনামূলক ইলিশের দাম বেশি কমেছে। ঈদের আগে বাজারে ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের প্রতি পিস ইলিশ বিক্রি হতো ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর এর থেকে বড় ইলিশ ঈদের আগে বিক্রি হতো ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় প্রতি পিস, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ২০০০ টাকায়। এ ছাড়া রুই-কাতলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। তেলাপিয়া কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, আইড় ৭০০ টাকা, মেনি মাছ ৪০০, বেলে মাছ প্রকারভেদে ৬০০, বাইন মাছ ৭০০, গলদা চিংড়ি ৭০০, পুঁটি ২০০, পোয়া ৫০০, মলা ৪৫০, পাবদা ৭০০, বোয়াল ৭০০, শিং ৮০০, দেশি মাগুর ৮০০, চাষের পাঙ্গাস ২০০, চাষের কই ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাজীপাড়া এলাকায় সুজন নামের এক ক্রেতা বলেন, বাসায় এখনো মাছের চাহিদা দেখিনি। ঈদে মাংসটাই বেশি চলে। তবে ঈদ শেষ হয়েছে, এখন মাছের চাহিদা বাড়বে। কারণ টানা মাংস খেয়ে এখন সবার মাছ খেতে বেশি ভালো লাগবে। আমিও এসেছি এই কারণে মাছ কিনতে। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল ও অন্যান্য মুদিপণ্য। বাজারে প্রতি কেজি নাজিরশাইল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট চাল ৫৫ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, বিআর ২৮ নম্বর ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২, লবণ ৩০ থেকে ৩৫, পোলার চাল ৯০ থেকে ৯৫, প্রতি কেজি খোলা আটা ২৭, প্যাকেট ৩২, খোলা ময়দা ২৮, প্যাকেট ৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, খেসারি ডাল ৬৫ থেকে ৭০, মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০, বুট ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

 

"