সিলেটে জমে উঠেছে ঈদবাজার

বিপণিবিতানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০

মহানগর (সিলেট) প্রতিনিধি

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কাজী ওমর ফারুক। নগরের ফ্যাশনপাড়াখ্যাত নয়াসড়ক এলাকার ‘এডিশন ফ্যাশন হাউসে’ এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। সঙ্গে আরো তিন বন্ধুকে নিয়ে এসেছেন, তারাও পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করবেন।

‘বছর জুড়েই কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা হয়। ঈদের আগের এ সময়টাতে কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো যায়। এখানে এসে পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করলাম। নিজের জন্য আরো দুদিন পর কিনব।’ বলছিলেন ফারুক। নয়াসড়কের ওই ফ্যাশন হাউসটিতে তখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এখানে নারী-পুরুষ সবার জন্যই কেনাকাটার ব্যবস্থা থাকায় ক্রেতা উপস্থিতি বেশি। শুধু এখানে নয়, সিলেটের সবগুলো বিপণিবিতানে এখন ক্রেতাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে ঈদ সন্নিকটে।

রোজার মাঝামাঝি সময়ের পর থেকেই সিলেটের ঈদবাজার পুরোদমে জমে উঠেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে নগরের প্রতিটি বিপণিবিতান। ক্রেতা উপস্থিতিতে বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। দিন যত গড়াবে, বিক্রি আরো বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সিলেট নগরের ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, কাকলী শপিং সিটি, শুকরিয়া মার্কেট, হাসান মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, লতিফ সেন্টার, সিটি সেন্টার, মিলিনিয়াম শপিং সিটি, নয়াসড়ক এলাকার কমলা ভা-ার, মাহা, মিরবক্সটুলার ফ্যাশন হাউসসহ বিভিন্ন বিপণিবিতান ক্রেতাদের আনাগোনায় সরগরম।

নগরের ব্লু ওয়াটার শপিং সেন্টারের ব্যবসায়ী জুবের আহমদ বলেন, ‘রোজা শুরুর দিকে তেমন ক্রেতা ছিলেন না। ১৬ রমজানের পর থেকে ক্রেতাদের আসা-যাওয়া শুরু হয়। বর্তমানে ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি বিক্রি হবে। এখনো অনেকে কেনাকাটা করতে বের হননি।’

নয়াসড়কের ফ্যাশন হাউস ‘আপন’-এর পরিচালক আসমা আক্তার লিয়া বলেন, ‘বিক্রি এখন বেড়েছে। ঈদবাজার জমে উঠেছে। তবে আরো নয় দিনের মতো বাকি ঈদের। ক্রেতাসংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশা করছি।’

সিলেট নগরের বড়বাজার এলাকার বাসিন্দা আহমদ আল দবির। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। নিজ বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায়। প্রতিবারই ঈদ বাড়িতে সবার সঙ্গে উদ্যাপন করে বলে জানান। নগরের জিন্দাবাজারের সিটি সেন্টার কেনাকাটা করতে এসে তিনি বলেন, ‘ঈদে বাড়ি চলে যাব। তাই বাবা-মাসহ বাড়ির সবার জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখেছি। এখন বাবা-মার জন্য কিনেছি। আমার জন্য কেনা বাকি। কেনাকাটা শেষ করে তবেই ফিরব।’

এদিকে, সিলেটের বিপণিবিতানের পাশাপাশি দর্জিপাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জিরা। রমজানের শুরু থেকেই কাপড় তৈরির ফরমায়েশ আসতে শুরু করে। দর্জিপাড়ায় এখন এতটুকু বিশ্রাম নেওয়ার সময় নেই। অনেকে নিজের প্রতিষ্ঠানেই খাওয়া-দাওয়া সারছেন।

সিলেটের বেশ কিছু দর্জির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ফরমায়েশ করা পোশাক তৈরি করতে অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া ঈদের সময় কাছাকাছি চলে আসাতে আরো ফরমায়েশ আসা শুরু হয়েছে। আগের তুলনায় এখন ফরমায়েশ আসছে বেশি বলে জানান দর্জিরা। সেলাইয়ের ধরন ও নকশার ভিন্নতার জন্য দর্জিবাড়িতে একেক পোশাকের মজুরিও হয়ে থাকে ভিন্ন।

লং কামিজ বানাতে খরচ পড়ছে ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা, সালোয়ারসহ ডাবল কামিজ ৭০০ থেকে ১৫০০, আনারকলি ৯০০ থেকে ১৭০০, ফ্রক কাটের সালোয়ার-কামিজে খরচ ৮০০ থেকে ১৪০০, সুতি কাপড়ের সালোয়ার-কামিজের খরচ ৪০০ থেকে ৯০০ এবং ব্লাউজ ডিজাইনভেদে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা।

দর্জিরা জানান, ছেলেদের পাঞ্জাবি বানাতে খরচ পড়ছে ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা। পায়জামার জন্য দিতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, শার্টে ৩০০ থেকে ৮০০, প্যান্ট সাড়ে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা। নগরের জিন্দাবাজারে মিতালি ম্যানশনের তুষার টইলার্সের পরিচালক খগেন্দ্র ঋষি বলেন, ‘কাজের চাপ এতই বেড়েছে দম ফেলার ফুসরত মিলছে না। প্রতিদিন নতুন পোশাক তৈরির ফরমায়েশ আসছে। শেষ পর্যন্ত ফরমায়েশ সময়মতো দেওয়াটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

এদিকে, ঈদবাজার নির্বিঘœ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিপণিবিতানের সামনে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিও রয়েছে প্রতিটি বিপণিবিতানে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, ‘রমজান ও ঈদকে ঘিরে সিলেটে তিনস্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। নগরবাসীর নির্বিঘœ কেনাকাটায় এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

 

 

"