দাম কমেছে নিত্যপণ্যের স্বস্তিতে ক্রেতারা

প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পাইকারি বাজারে আরেক দফা কমেছে চালের দাম। নতুন চালের সরবরাহ বাড়লে চালের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান পাইকাররা। কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে আদা, রসুন আর পেঁয়াজের। ছোলা আর চিনির দাম কমলেও, দর বেড়েছে দেশি মসুর ডালের। তবে, স্থিতিশীল রয়েছে সব ধরনের মসলা এবং ভোজ্যতেলের দর।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুসবাগিচা, মহাখালী কাঁচাবাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমনই চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একের পর এক ট্রাক বোঝাই নতুন চাল আসছে রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে। থরে থরে বস্তা সাজাচ্ছেন দোকানিরা। তবে ক্রেতা না থাকায় এক প্রকার অলস সময় পার করছেন পাইকাররা। শোনালেন স্বস্তির খবর। নিন্মমুখী থাকা চালের দাম কমেছে আরেক দফা। সরবরাহ ভালো থাকায় দাম আরো কমার সম্ভাবনা আছে বলে জানান তারা। বিক্রেতারা বলেন, মিনিকেট আর ২৮ কেজিতে ৪-৫ টাকা কমেছে। নতুন ধান যখন বাজারে আসবে তখন বোঝা যাবে ধানের যে দর পতন তা চালের বাজারে কতটুকু প্রভাব ফেলবে।

বাজারে প্রতিকেজি নাজির ৫৬-৫৮ টাকা। মিনিকেট চাল ৫০-৫২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। স্বর্ণা ৩৫-৩৮ টাকা, বিআর ২৮- নম্বর ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, লবণ ৩০ থেকে ৩৫, পোলাওয়ের চাল ৯০ থেকে ৯৫। প্রতিকেজি খোলা আটা ২৭ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, খোলা ময়দা ২৮ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা। প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, খেসারি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা, বুট ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।

এছাড়া বাজারভেদে ভালোমানের দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ২৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। যা গতসপ্তাহে ৩২ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকায়। এদিকে দীর্ঘদিন পর বাজারে সবজির দাম কমেছে। এখন বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। দাম কম সবজির মধ্যে মান ও বাজার ভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়। যা একদিন আগে ছিল ৫০ টাকা, কচুরলতি ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা যা একদিন আগে ছিল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা আগে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়। একদিন আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া ধুনদুল বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। এছাড়া ঝিঙা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। যা একদিন আগে বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি পেঁপে ৫০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, লেবু হালি মান ভেদে ২০-৪০ টাকা। আর কাঁচামরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ২০টাকা।

ব্যবসায়ী বলরাম সাহা বলেন, কেজিতে ১০ টাকা কমেছে সব ধরনের সবজির দাম। তবে কিছু দিনের মধ্যে সবজির বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। নতুন সবজি আসলে এমনিতেই দাম কমে যাবে।

অন্যদিকে বাজারগুলোতে নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী দেশি গরুর মাংস প্রতিকেজি ৫২৫ টাকা এবং বিদেশি বা বোল্ডার গরুর মাংস প্রতিকেজি ৫০০ টাকা ও মহিষের মাংস প্রতি কেজি ৪৮০ টাকায় বিক্রয়ের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে খাসির মাংস প্রতিকেজি ৭৫০ টাকা এবং ভেড়ার মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা ধরে বিক্রির জন্য দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম রমজান থেকে ২৬ রমজান পর্যন্ত মাংসের এ দাম নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সকালে অভিযানের ভয়ে নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি হলেও বিকালে ২০ থেকে ৭৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৫৫ টাকা। আর লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা। যা কদিন আগে ছিল ১৯০ টাকা।

"