সিলেটের ঈদবাজার এখনো জমেনি

প্রকাশ | ২০ মে ২০১৯, ০০:০০

তুহিন আহমদ, মহানগর (সিলেট)

সিলেট নগরের নয়া সড়কে অবস্থিত ফ্যাশন হাউস ‘আপন’। এখানে নারীদের শাড়ি, জুয়েলারি ও ড্রেস পাওয়া যায়। বলতে গেলে একের ভেতরে তিন। ঈদ কেন্দ্র করে পাঁচ রমজানের পর থেকেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নতুন পণ্য দিয়ে হাউসটিকে সাজানো হয়। তবে বারো রমজান পেরিয়ে গেলেও এখনো আশানুরূপ ক্রেতা নেই বলে জানিয়েছেন ফ্যাশন হাউসটির মালিক আসমা আক্তার লিয়া।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত ১০ রমজানের পর থেকেই নয়া সড়কে ঈদের বাজারে ক্রেতার ভিড় শুরু হয়। তবে এবার এখনো শুরু হয়নি। বলতে গেলে ঈদের বাজার এখন শুরুর পথে। আশা করছি, ১৫ রমজানের ভেতরেই ঈদের বাজার জমতে শুরু করবে।’

লিয়া জানান, নয়া সড়কের এই ফ্যাশন হাউসটিতে শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ৭০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। নারীদের জুয়েলাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে নেকলেস, চিখার, সিতাহার, কানের দুল, মালা সেট, নূপুর ও বাহারি ডিজাইনের চুরি। এ ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের ইন্ডিয়ান ড্রেসও।

সময় যত গড়াচ্ছে, ঈদুল ফিতর তত ঘনিয়ে আসছে। সিলেটে এখনো ঈদের বাজার পুরোপুরি জমে উঠেনি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ১৫ রমজানের পর থেকেই মূলত ক্রেতাভিড় বাড়ে। তাই বেশির ভাগ বিপণিবিতানই এখন ক্রেতাশূন্য। অলস সময়ও পার করছেন অনেক বিপণিবিতানের ব্যবসায়ীরা।

সিলেট নগরের জিন্দাবাজারের কাকলী শপিং সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের আনাগোনা অনেকটা কম। বর্তমানে যারাই বিপণিবিতানগুলো ঘুরছেন, তাদের বেশির ভাগই দর্শনার্থী। বাজারের দাম যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তারা এসেছেন।

নগরের কাজলশাহ এলাকার বাসিন্দা খাদিজা বুশরা নূর প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘ঈদের কেনাকাটা এখনো শুরু করিনি। তবে বাজার ঘুরে দেখছি। নতুন কী কী এসেছে, দাম কেমন। যাচাই-বাছাই করেই কেনব। এখনো সময় অনেক বাকি, তাই তাড়াহুড়ো করছি না।’

জিন্দাবাজারের ব্লু ওয়াটার শপিং সেন্টারে গিয়ে কিছুটা ক্রেতাভিড় লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে শাড়ির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা এখন একটু বেশিই। কিছুটা ক্রেতাভিড় রয়েছে জিন্দাবাজারের সিটি সেন্টার, শুকরিয়া মার্কেট ও আল হামরা শপিং সেন্টারে। এ ছাড়া অন্য বিপণিবিতানগুলোতে এখনো তেমন একটা ক্রেতাদের আনাগোনা নেই।

কাকলী শপিং সেন্টারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি জোকারিয়া ইমরুল প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘অন্যান্য সময় আরো আগে ঈদের বাজার জমে ওঠে। তবে এবার এখনো জমে ওঠেনি। আমরা আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করবে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরাও নতুন বিভিন্ন ধরনের পণ্য এরই মধ্যে দোকানগুলোতে সাজিয়ে রেখেছেন।’

কাপড়ের ঈদবাজার জমে না ওঠায় এখনো জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের বাজারও জমে উঠছে না। নারীরা তাদের পছন্দের কাপড়ের সঙ্গে মিলিয়ে জুয়েলারি পরতে পছন্দ করেন। তাই আগে শাড়ি বা পছন্দের ড্রেস কেনার পরই ভিড় বাড়ে জুয়েলারির দোকানগুলোতে।

সিলেট নগরের জিন্দাবাজারের মিলেনিয়াম মার্কেটের জুয়েলারি দোকান ‘সিলেট জড়োয়া’ হাউসের মালিক ইয়াসিন সুমন বলেন, ‘নারীদের পছন্দের নতুন ডিজাইনের আকর্ষণীয় বেশ কিছু জুয়েলারি এরই মধ্যে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে আশানুরূপ ক্রেতা এখনো নেই। আমরা আশা করছি, দ্রুতই আমাদের ঈদবাজার জমে উঠবে।’

একই মার্কেটের সিটি জুয়েলার্সের মালিক সেলিম আহমদ জানান, রমজানের শুরু থেকেই নতুন নতুন ডিজাইনের জুয়েলারি এনে দোকান সাজিয়ে রেখেছেন। তবে ক্রেতাদের ভিড় এখনো বাড়েনি। কিছু ক্রেতাদের আনাগোনা রয়েছে। ঈদে সোনার অলংকারের তেমন চাহিদা না থাকায় বেশ অলস সময় পার করছেন সোনার ব্যবসায়ীরা। বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে সোনার চাহিদা থাকে। ঈদে বেশির ভাগই গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারির দিকে ঝুঁকেন। তাই অলস সময় কাটাচ্ছেন তারা।

সিলেট নগরের বারুতখানা এলাকার নিউ ইসলাম জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী ইসরাক আহমদ বলেন, ‘ঈদে সোনার চাহিদা থাকে না। তাই ঈদবাজারে আমাদের তেমন একটা আশানুরূপ চাহিদা থাকে না। কিছু কিছু ক্রেতা রয়েছেন, যারা ঈদে একসঙ্গে সোনার কেনাকাটা করে থাকেন। এ ছাড়া ঈদকেন্দ্রিক তেমন সোনার কেনাকটা থাকে না।

 

"