কংক্রিটের নগরীতে বাদুড়ের অভয়ারণ্য

প্রকাশ | ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

আসাফুর রহমান কাজল, খুলনা

তীব্র গরমে পা দিয়ে গাছের ডাল আঁকড়ে ধরে উল্টো হয়ে মাথা নিচে দিয়ে ঝুলে ঘুমিয়ে থাকে বাদুড়। ডানা ছেড়ে হাতপাখার মতো বাতাস করে আর কিছুক্ষণ কিচিরমিচির শব্দ করে আবার স্থির হয়ে যায়। পাখির মতো উড়লেও আকৃতির কারণে বাদুড় নিয়ে ছড়ানো হয়েছে আতঙ্ক। আর অশুভর প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে নানা কল্প-কাহিনি। এমন কুসংস্কার ও কল্প-কাহিনির মধ্যেও খুলনা নগরীতে আবাস গেড়েছে এই প্রাণী।

কিন্তু বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার জানান ভিন্ন কথা। তিনি জানান, বাদুড় নিয়ে কল্প-কাহিনী আর কুসংস্কারের যুগ কেটে গেছে। এরা মানুষের উপকারই করে। প্রায় ৩০০ ধরনের গাছের বীজ ছড়াতে সাহায্য করে। আবার কীটপত্যঙ্গ খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে। পরাগায়ণ সৃষ্টি করে। তাই মানবকল্যাণকারী ও পরিবেশবান্ধব এ স্তন্যপায়ী প্রাণীটি রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশ দিয়ে যাতায়াতের সময় গাছের ডালে ডালে প্রকৃতির বন্ধু বাদুড় ঝুলে থাকতে দেখে বেশ ভালো লাগে।

খুলনা মহানগরীতে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সীমানাপ্রাচীর-ঘেঁষে রয়েছে লম্বা লম্বা দেবদারুগাছ। আহসান আহমেদ রোড এবং লোয়ার যশোর রোডের সংযোগস্থলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের চারটি গাছ যেন বাদুড়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রচ- দাবদাহের মধ্যে এসব গাছে ঝুলতে দেখা যায় অসংখ্য বাদুড়। সন্ধ্যায় অন্যান্য পাখি আর বাদুড়ের ছোটাছুটিতে এলাকাটিতে সৃষ্টি হয় সৌন্দর্যের অনাবিল এক পরিবেশ। সকালে আকাশের দিকে তাকালে এদিক-সেদিক দেখা যায় উড়ন্ত বাদুড়ের দল। দিনভর থাকে এখানেই। পড়ন্ত বিকেলে উড়ে চলা বাদুড়গুলো দেখে মনে হয় আকাশ যেন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সেকেন্দার আলী পাটোয়ারী জানান, ভোর আর সন্ধ্যায় শালিক, চড়–ই, বাদুড়সহ অসংখ্য পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত থাকে এই এলাকা। একটু বেলা হলে অন্য সব পাখি চলে আসে। আর তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পশ্চিম কোনার চার-পাঁচটি দেবদারুগাছে শত শত বাদুড় ঝুলে থাকে। এরা যেন পোষা প্রাণীদের মতোই বসবাস করছে। বহুকাল ধরে এরা রয়েছে। সন্ধ্যায় আবার চলে যায়। ইট-পাথরের শহরে এ এক অন্যরকম পরিবেশ।

এ এলাকায় কর্মরত মো. ফাহিম হাসান জানান, বইয়ে পড়েছি, বাদুড় গুহায় কিংবা অন্ধকার জায়গায় থাকে। তবে এখানের গাছগুলোতে শত শত বাদুড়ের বসবাস। এ যেন তাদের নিজেদের আবাস।

এলাকার আরেক ব্যবসায়ী মো. সুমন শেখ জানান, ব্যাংকের কোনার গাছগুলো বাদুড়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বসবাস করে অগণিত বাদুড়। এদের বসবাস, বিচরণ আর কিচিরমিচির শব্দে দিনরাত মুখরিত থাকে এলাকাটি। তবে সন্ধ্যা আর ভোরে এখানে অন্য রকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অরুণ কান্তি ম-ল জানান, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার্থে বাদুড় বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারী প্রাণী বাদুড়ের নিরাপদ আবাসস্থলগুলো ধরে রাখতে স্থানীয়দেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

"