রসে টইটম্বুর ফল এলো মধুমাস

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে হরেক রসালো ফল। রসে টস টসে এসব দেশি ফলের এই সমারোহ ডেকে আনল মধুমাস জ্যৈষ্ঠকে। আম, জাম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু, জাম, পেয়ারা, জামরুল, কদবেল, আতা, তাল, তরমুজ, আমড়া, কামরাঙা, লটকন, করমচা, ডেউয়াসহ কত মধু ফল বাজারে! তবে খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় না বাঙালির রসনাতৃপ্তির এই মাস। মূলত গ্রীষ্ম ঋতুর খরতপ্ত বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ দুই মাসই মিষ্টি ফলের মাস। তবে তা জমে ওঠে জ্যৈষ্ঠেই।

জ্যৈষ্ঠের কাঁঠাল পাকা গরমের কথা সবারই জানা। এমন গরম এ সময়ে পড়ে তাতে মানুষ রীতিমতো অতিষ্ঠ। দর দর করে ঘাম ঝরে নেয়ে ওঠার অবস্থা। অল্প শ্রমে পরিশ্রান্ত। ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, টর্নেডোসহ ঝড়-ঝঞ্ঝা আর বজ্রপাতে প্রাণ সংহার হয়। তারপরও এ মধুমাসের কদর কম নয়।

শহুরে জীবনেও মধুমাসের প্রভাব পড়েছে। ইটপাথরের কৃত্রিম শহরে নাইওরের নতুন সংস্করণ হচ্ছে ফল উৎসব। দাম যতই হোক, সব ফলের সমারোহ হয় এ উৎসবে। হাতের নাগালে পাওয়া প্রায় সব ফলের স্বাদ নেওয়া হয়।

তবে এসব উৎসবে পৌঁছার আগে মধুমাসের উপহার এখনকার কাঁচা আম। বাজারে বর্তমানে যা দেদার বিক্রি হচ্ছে। হালকা ঝড়ে যেসব আম ঝরে পড়ে, কেউ আচার আবার কেউ মরিচ-লবণসহ নানা মসলা মাখিয়ে খান। কাঁচা আমের আয়োজন মানেই জিভে পানি চলে আসার খাবার।

জ্যৈষ্ঠ মাস বাংলার গ্রামীণ সমাজের ঐতিহ্যেরও অনিবার্য অংশ। গ্রামের মানুষ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আম-কাঁঠালের উপহার পাঠিয়ে থাকে এই জ্যৈষ্ঠেই। শহরেও ফলের উৎসব এখন। গ্রাম কিংবা শহরের ফুটপাতে এবং ফলের দোকানগুলোয় নজর কাড়ছে এখন গ্রীষ্মের মৌসুমি ফল।

সাম্প্রতিককালে ফল বেচা-বিক্রির ধরনও পাল্টে গেছে। রিকশাভ্যানে নানা রূপ বৈচিত্র্যের রসালো ফলের পসরা সাজিয়ে বিক্রেতারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে বেড়ায় শহর বাজার গ্রাম মহল্লায়। তবে দাম কিন্তু চড়া। নতুন নতুন সব বাহারি ফলের চড়া দামের ভারে সাধারণ ক্রেতারা তাদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খায় রীতিমতো।

বাংলাদেশে চাষ করা ফলের ৯০ ভাগই আম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ ও নারিকেল। আমের কথাই ধরা যাক। প্রায় ৬ হাজার বছর ধরে আমের চাষ শুরু হলেও বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয় আঠারো শতকের দিকে। বর্তমানে সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ আমের প্রায় ৩ হাজার বুনো ও চাষের প্রজাতি রয়েছে। আম বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল হওয়ায় আমকে বলা হয় ফলের রাজা। রাজশাহী অঞ্চল আম উৎপাদনে অন্য জেলাগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে।

গুণগত মানের কারণেও আমের রয়েছে বিভিন্ন নাম যেমন- মোহনভোগ, ল্যাংড়া, ক্ষীরসাপাতি, রসগোল্লা, রাজভোগ, মিশ্রিদানা, কালোপাহাড়, হাজারী, গুটুলে, বুলবুলি, রসখাজা, মনোহরা, বিশ্বনাথ, গৌরজিত, হাঁড়িভাঙা, কুয়াপাহাড়ি, সাটিয়ারপরা, সিঁদুরে, বউভুলানি ইত্যাদি। এসব আম ছাড়াও নতুন উদ্ভাবিত আম্রপালি, মল্লিকা, সিন্ধু, রতœা, পুপিতো, মহানন্দা, আলফানসো, চোষা ইত্যাদি আম মধুমাসে দেশের সব জায়গাতে পাওয়া যায়

 

"