চসিকের ৪৯১ কোটি টাকার স্মার্ট সিটি প্রকল্প

নগরী আসবে হাতের মুঠোয়

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০

তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামকে স্মার্ট সিটি করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এর মাধ্যমে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কিং সিস্টেমে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পাশাপাশি শক্তিশালী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরদারিসহ ৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-লার্নিং সিস্টেমও চালু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুরো নগরী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় চলে আসবে।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯১ কোটি টাকা। ‘স্মার্ট সিটি প্রকল্প’ নামে একটি ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) প্রস্তুত করেছে সংস্থাটি। এ-সংক্রান্ত ফাইলটি গত ৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার স্মার্ট সিটি বিনির্মাণ। চট্টগ্রাম নগরীকে স্মার্ট সিটিতে পরিণত করার লক্ষ্যে স্মার্ট সিটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে নগরীর সব ওয়ার্ড কার্যালয়ের কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তা ছাড়া বিভিন্ন স্পটে স্থাপন করা হবে শক্তিশালী সিসি টিভি ক্যামেরা। এ ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিক নগর মনিটরিং করবে। প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকেও ক্যামেরাগুলো নিখুঁত ছবি ধারণ করতে পারবে। অন্ধকারের মধ্যেও সেগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এতে সন্ত্রাস, খুন-খারাবি, ইভটিজিং বা যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকা- প্রতিরোধে শতভাগ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। তা ছাড়া চসিক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ই-লার্নিং পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের লক্ষ্যে স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেমও বাস্তবায়ন করা হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্য উন্নত প্রযুক্তি নগরীগুলোর কাতারে স্থান পাবে চট্টগ্রামের নাম।

চসিক সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৪৯১ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১ ওয়ার্ডকে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কিংয়ে সংযুক্ত করা হবে। ওয়ার্ড অফিসগুলোর সব কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করবে চসিক সদর দফতর। ওয়ার্ডের উন্নয়ন বা নাগরিক সেবা সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্যক্রম মনিটরিংসহ ওয়ার্ডে কোনো বিভাগের কতজন লোক দায়িত্ব পালন করছেন, কে কোন জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন বা অনুপস্থিতির হারÑ এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে নিয়মিত আপডেট করা যাবে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। প্রকল্পের আওতায় নগরীর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার সড়ক এলাকা এই ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করা হবে।

পুরো নগরীর সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, খুন, অপহরণ, ইভটিজিং বা যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকা- প্রতিরোধে ৫০০ স্পটে স্থাপন করা হবে এক হাজারটি শক্তিশালী সিসি টিভি ক্যামেরা। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই ক্যামেরাগুলো দিন-রাত সার্বক্ষণিক সক্রিয় থেকে ছবি ধারণ করবে। অন্ধকারেও এই ক্যামেরাগুলোর নিখুঁত ছবি ধারণে সক্ষমতা রয়েছে। শুধু ছবি ধারণ নয়, ক্যামেরাগুলোর অপারেটিং সিস্টেমে চিহ্নিত অপরাধী, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বা যেকোনো ব্যক্তির ছবি আপলোড করে দিলে ক্যামেরায় ধারণ হওয়া মাত্রই তা সংকেত পাঠাতেও সক্ষম।

মনিটরিং ও অপরাধ দমনের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও অবদান রাখবে এই প্রকল্প। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত ৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেম চালুর লক্ষ্যে ই-লার্নিং শিক্ষাদানের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে এই প্রকল্পে। তবে প্রাথমিকভাবে চসিকের ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-লার্নিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রকল্পের ডিপিপিতে সংযোজন করা হয়েছে।

প্রকল্পের ব্যাপারে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, গত ৩ এপ্রিল প্রকল্পের ডিপিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ডিপিপিটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য আমরা ফরোয়ার্ড এপ্লাই করেছি। মূলত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার ভিত্তিতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফরে এলে তারা মেয়রকে এই প্রকল্পে অর্থ সহযোগিতা করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন।

প্রকল্পের ব্যাপারে চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন বলেন, স্মার্ট সিটি প্রকল্পের ডিপিপি পর্যবেক্ষণের অগ্রগতির ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। শিগগিরই এর সু-সংবাদ আমরা পাব। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম সত্যিকার অর্থেই প্রযুক্তি নগরীতে পরিণত হবে।

 

"