রাজধানীর ফুটপাত

কিছু অংশে বসতে চান হকার সিটি করপোরেশনের না

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

রমজানে যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীর ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অফিস ছুটির পর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও কর্মজীবী মানুষরা যেন দ্রত বাসায় পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যে ডিএমপি ও দুই সিটি করপোরেশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে রমজানে হকারদের ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য ১১টি হলিডে মার্কেট চালু করেছে সংস্থা দুটি। তবে হকাররা হলিডে মার্কেট ছাড়াও ফুটপাতের কিছু অংশে নিয়মিত বসতে চান। কিন্তু সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, হলিডে মার্কেট ছাড়া ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া যাবে না। কারণ একটু দিলে তারা পুরোটায় বসে পড়বেন।

রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছেন হকাররা। অনেকে ফুটপাতে স্থায়ীভাবে অবস্থান নিয়ে দিনের পর দিন ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ফুটপাত প্রশস্ত ও উন্নয়ন করলেও হকাররা আগের মতোই ব্যবসা করতে থাকেন। এতে জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক বিঘœতা ঘটে। পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা।

এসব কারণ ছাড়াও সম্প্রতি রাজধানীজুড়ে মেট্রোরেলের কাজ চলার কারণে জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া রমজানে কর্মজীবী মানুষরা যেন দ্রুত বাসায় পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন ও ডিএমপির পক্ষ থেকে ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টনসহ বেশির ভাগ ফুটপাত থেকেই হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই হকাররা উচ্ছেদের পর থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন।

মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছেন। তবে সিটি করপোরেশন ও পুলিশ ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার ব্যাপারে অনড় রয়েছে। এ জন্য বিগত সময়ে রমজানে হকারদের বিশেষ ছাড় দিলেও এ বছর রমজানেও কোনোভাবেই হকারদের ফুটপাতে বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে জন্য দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি হলিডে মার্কেট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ১১টি হলিডে মার্কেটের মধ্যে ডিএসসিসি এলাকায় ৫টি এবং ডিএনসিসির বাইরে বসবে ৬টি। দক্ষিণের স্থানগুলো হলো, কার্পেট গলি তথা মৎস্য ভবন থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত, তেজগাঁও নালার পাড় তথা কাঁটাবন থেকে শাহবাগের দিকে প্রথম গলি, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের রাস্তা, দিলকুশা রোড তথা বক চত্বর থেকে পূবালী ব্যাংক লিংক রোড পর্যন্ত ও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার পূর্ব পর্যন্ত। উত্তরের স্থানগুলো হলো লালমাটিয়া মাঠ (আড়ংয়ের পেছনে), সলিমুল্লাহ রোডের পানির ট্যাংক মাঠ, মিরপুর-১ থেকে রাইন খোলা, হারুন মোল্লাহ ঈদগাহ মাঠ, উত্তরার জমজম টাওয়ারের পশ্চিম পাশের খালি প্লট এবং কাবাব ফ্যাক্টরির সামনের খালি চত্বর।

শুধু শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ মার্কেট চালু থাকবে। সম্প্রতি ফুটপাত থেকে উচ্ছেদকৃত হকার এবং দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করা এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৩০ এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ-সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলেছেন, আসন্ন রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র হকারদের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য ফুটপাতের পরিবর্তে নির্দিষ্টস্থানে শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে হলিডে মার্কেট স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন। সে আলোকে দুই সিটি করপোরেশন ১১টি স্থান নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। এ মার্কেটগুলো শুধু রমজানের এক মাস বহাল থাকবে। ঈদের পর মার্কেটগুলো অপসারণ করা হবে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, যানবাহন ও পথচারী চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই ফুটপাতে কাউকে বসতে দেওয়া হবে না। তবে অফিস সময় শেষে মতিঝিল এলাকায় হকাররা বসতে পারবেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, রমজান মাসে হকাররা ফুটপাতের কিছু অংশে বসতে চান। আমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছি, কোথাও বসতে পারবেন না। কারণ কিছু অংশ দিলে পুরোটায় বসবেন তারা।

এ বিষয়ে হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের ব্যানারে একটি প্রতিনিধিদল মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ দেখা করেননি।’ তিনি বলেন, ‘মেয়রের কাছে আমাদের অনুরোধ, যাতে আমাদের ঈদের আগে অন্তত কিছু স্থানে বসার ব্যবস্থা করে দেন। এতগুলো মানুষ কোথায় যাবে সরকারকে তা ভাবতে হবে। আমাদের সন্তান, মা-বাবা কী ঈদ করবেন না?’

 

 

"