ময়লার ভাগাড়ে ফেলা পচা খেজুর ফের দোকানে!

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

মহানগর (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেটে ময়লার ভাগাড়ে ফেলা খেজুর আবারও দোকানে নিয়ে এসেছেন দোকানিরা। সম্প্রতি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ময়লার ভাগাড়ে ফেলা হয় সাড়ে ১২ টন মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর। এর আগেও বিভিন্ন অভিযানে জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ময়লার ভাগাড়ে ফেলা হলেও সেখান থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। জব্দকৃত এসব পণ্য ধ্বংসের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিলেটের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। অপরদিকে ময়লার ভাগাড় থেকে ফেলে দেওয়া পণ্য আবারও দোকানে নিয়ে বিক্রি করার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তা অধিদফতর পরিচালক।

গত মঙ্গলবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থেকে জব্দ করা সাড়ে ১২ টন পচা খেজুর একটি ট্রাকে বোঝাই করে সিলেটের হুমায়ন রশিদ চত্বরসংলগ্ন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের রাস্তার পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন বুধবার বিকেলে স্থানীয় জনতার সামনেই বস্তাভর্তি পচা খেজুরগুলো ময়লার ভাগাড় থেকে দোকানি ও রেস্তোরাঁর মালিকরা কর্মচারীদের দিয়ে তুলে আনেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দোকান কর্মচারীরা দিনভর খেজুর সংগ্রহ করেছেন। ময়লার ভাগাড় থেকে নিয়ে যাওয়া খেজুরের বস্তাগুলো ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত ছিল। বিকেলে খেজুরগুলো একটি ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে জনতা দেখে ফেলায় হতভম্ব হয়ে পড়েন দোকান কর্মচারীরা। এ সময় লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে দোকান কর্মচারীরা পালিয়ে যান। ময়লায় ফেলা নষ্ট খেজুর তুলে এনে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে দোকানি ও ব্যবসায়ীরা প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রমজানে ভোক্তা অধিকার অধিদফতর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনা করছে। এর জন্য অব্যশই তাদের ধন্যবাদ দিতে হয়। তবে তাদের এই অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হতো না যদি জব্দকৃত পণ্য ধ্বংস প্রক্রিয়াটা আরো শক্ত হতো। যেসব দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল, সেসব দোকানে আবারও অভিযান দেওয়া হোক। এসব অপরাধের জন্য ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।’

তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যদি নীতিনৈতিকতা না থাকে, তবে সে দেশের সাধারণ মানুষের ওপরও সেটার প্রভাব পড়ে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নীতিনৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। কোনো নীতিবান মানুষ এই পচা খেজুর ময়লার ভাগাড় থেকে তুলে এনে বিক্রি করতে পারেন না। যেহেতু এত ঘৃণ্য কাজ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে করছে, তাই বুঝতে হবে রাষ্ট্রের অনৈতিক কাজের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপকভাবে পড়েছে।’ তাই এসব রোধ করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর কথা বলেন ফারুক মাহমুদ চৌধুরী।

এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিদফতর সিলেটের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে যদি এ রকম কাজ করা হয়, তবে এটা অনেক দুঃখজনক ও ভয়াবহ। যে জিনিস ময়লায় ফেলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তুলে এনে বিক্রি করা মানুষগুলোর কতটুকু নীতিনৈতিকতা আছে।’

তিনি বলেন, ‘জব্দকৃত পণ্য ধ্বংস করতে সব জায়গায় আমরা বোলডোজার ব্যবহার করতে পারি না। যে এলাকায় অভিযান হয় সে এলাকার নর্দমা, ডোবায় পণ্যগুলো ফেলে দিয়ে ধ্বংস করি। এখন যদি ব্যবসায়ীরা ডোবা থেকে, ময়লা থেকে পণ্য আবার তুলে আনেন; তা হলে এসব ধ্বংসের প্রক্রিয়ায় আরো কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। যে বা যারা পচা খেজুর সংগ্রহ করেছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি। ধরতে পারলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে তাদের।’

"