সিলেট সিটি করপোরেশন

তদারকির অভাবে অস্তিত্ব হারাচ্ছে ডাস্টবিন প্রকল্প

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

মহানগর (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত চার বছর আগে সিটি করপোরেশন বিভিন্ন স্থানে ২ শতাধিক অস্থায়ী ডাস্টবিন বক্স স্থাপন করা হয়। তবে সঠিক তদারকি না থাকার কারণে অস্তিত্ব হারিয়েছে সিসিকের এই ডাস্টবিন প্রকল্প। অধিকাংশ ডাস্টবিন চুরি হয়ে গেছে, শুধু পড়ে আছে ডাস্টবিনের ফ্রেম। এছাড়াও যেগুলো টিকে আছে সেগুলোর বেশির ভাগেরই ঢাকনা নেই অথবা অপরিচ্ছন্ন। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় মিউনিসিপল গভর্নেন্স সার্ভিসেস প্রজেক্টের আওতায় এসব ডাস্টবিন স্থাপন করে সিসিক।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরীর বেশকিছু স্থানে ২০০টি ছোট প্লাস্টিকের, ১০টি ছোট স্টিলের ও ১০টি বড় স্টিলের ডাস্টবিন বসানো হয়। বড় ডাস্টবিনগুলো নগরীর রিকাবীবাজার, শাহী ঈদগাহ, টিলাগড়, উপশহর, দক্ষিণ সুরমা বাস টার্মিনালে স্থাপন করা হয়। মাঝারি আকারের ডাস্টবিনগুলো বিসিক গোটাটিকর, সুবিদাবাজার পয়েন্ট, হাউজিং এস্টেট, গোপালটিলা, ঘাসিটুলা নবাব রোড, ঝর্ণারপাড় ও কালীঘাট পয়েন্টে স্থাপন করা হয়। চার বছর আগে এসব স্থানে ডাস্টবিনগুলো স্থাপন করা হয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আরো ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়টি বলা হলেও সেটি আর হয়নি। বরং যেগুলো রয়েছে সেগুলোরও সঠিকভাবে তদারকি করা হয়নি। ফলে নগরীর যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন নগরবাসী।

সরেজমিন সিলেটে বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছোট যেসব ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছিল সেগুলোর ড্রাম চুরি হয়ে গেছে। শুধু লোহা দিয়ে তৈরি ফ্রেমটি অবশিষ্ট রয়েছে। যেসব স্থানের ডাস্টবিনগুলো টিকে আছে সেগুলো বেশির ভাগের ঢাকনা নেই। ডাস্টবিনটি ময়লায় ভরে গিয়ে উপচে আছে। ডাস্টবিনের আশপাশেও অপরিচ্ছন্ন। ফলে দুর্গন্ধে পাশ দিয়ে হাঁটার সময় নাক চেপে হাঁটছেন পথচারীরা।

ডাস্টবিন বিষয়ে নগরবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সঠিকভাবে তদারকি করলে নগরবাসী এর সুফল ভোগ করতে পারতেন। পাশাপাশি নগর পরিচ্ছন্নতায় আরো একধাপ এগিয়ে যেত। স্থিরচিত্র ও চলচ্চিত্রবিষয়ক সংগঠন কাকতাড়–য়ার সাধারণ সম্পাদক আমিনা আক্তার বলেন, ভালো কোনো উদ্যোগের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা প্রয়োজন। তবেই এর সুফল সবাই পাবেন। সিলেটে যেসব স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে এসবের সঠিকভাবে তদারকি করা প্রয়োজন। এর পরিধিও বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হওয়া উচিত। এদিকে তদারকি কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে সিসিক কর্তৃপক্ষ।

 

"