রাজধানীতে ত্রুটিপূর্ণ প্রায় ৩ হাজার বহুতল ভবন

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে ১০তলার বেশি উচ্চতার ভবন রয়েছে সাড়ে ৩ হাজারের মতো। এসব ভবনের বেশির ভাগেরই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতিসহ নানা ত্রুটি রয়েছে। এদিকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বহুতল ভবন নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও রাজউক তা দিতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নগরীর ১০তলার বেশি উচ্চতার বহুতল ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য ত্রুটি-বিচ্যুতির ঘটনায় তদন্তে মাঠে নামে রাজউক। রাজউকের ২৪টি টিম ভবনগুলোর প্রকৃত অবস্থা জানতে কাজ শুরু করে গত ১ এপ্রিল। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে টিমগুলো প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। রাজউকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাড়ে ৩ হাজারের বেশি ভবনের মধ্যে ১৮১৩টি বহুতল ভবনের তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে তারা।

সংগৃহীত এসব তথ্য আরো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে গত সোমবার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভবনগুলোর বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরা হয়।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ২০১৬ সালে করা জরিপ অনুযায়ী, রাজউক আওতাধীন এলাকায় ২২ লাখের বেশি ইমারত রয়েছে। এর মধ্যে ৮৪ শতাংশ ভবন একতলা। আর ১০তলার অধিক ৩ হাজার ২৭৩টি বহুতল ভবন রয়েছে। ২০১৬ সালের পর গত তিন বছরে এই সংখ্যা আরো বেড়েছে। সব মিলিয়ে বহুতল ভবনের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এসব ভবনের মাত্র ১৮১৩টির তথ্য সংগ্রহ করতে পেড়েছে রাজউক। বাকি ভবনগুলোর বিষয়ে দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান বলেন, ‘সোমবার আমাদের একটি মিটিং হয়েছে। সেখানে ১ হাজার ৮১৩টি বহুতল ভবনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কী পরিমাণ ভবনে ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে তা এখনই বলতে পারছি না। তবে বেশিরভাগ ভবনে বিচ্যুতি পাওয়া গেছে।’

এর আগে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের নির্দেশে বহুতল ভবনের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় রাজউক। সে সময় তথ্য সংগ্রহের জন্য বেশকিছু নির্দেশনাও দিয়েছিলেন মন্ত্রী। ভবনের মূল মালিক এবং নির্মাণকারী উদ্যোক্তা বা ডেভেলপার কোম্পানির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, রাজউক অনুমোদিত নকশা আছে কি না তা দেখতে নকশা অনুমোদন ও ভবন নির্মাণের সাল, নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি এবং প্রকৌশলীর নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বিষয়ে তথ্য জোগাড় করতে হবে, ভবন নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কি না, নকশা অনুযায়ী কার পার্কিং ও সেট ব্যাক সঠিক আছে কি না এবং ব্যত্যয় হলে কী পরিমাণ ব্যত্যয় হয়েছে সেসবের তথ্য চেয়েছিলেন মন্ত্রী।

একইসঙ্গে যে বিধিমালা (২০০৮ বা তার আগের) অনুসরণ করে নকশা অনুমোদন করা হয়েছে, সেই বিধিমালা/নকশা অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তথা জরুরি নির্গমন পথ আছে কি না এবং সিঁড়ির প্রশস্ততা সঠিক আছে কি না, সেসব তথ্যও সংগ্রহের কথা বলেন মন্ত্রী। ইমারতের অতিরিক্ত ইন্টিরিয়র ডিজাইন করা হয়েছে কি না, প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে কি না, অনুমোদিত নকশা মোতাবেক ইমারতটি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না (আবাসিক ইমারত আবাসিক হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে কি না), সে বিষয়টিও দেখার কথা বলেন তিনি।

এছাড়া, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ফায়ার ফাইটিং নকশা ও অনাপত্তিপত্র প্রদান করা হয়েছিল কি না এবং তাদের পক্ষ থেকে নির্মাণকালীন ও নির্মাণ পরবর্তী তদারকি করা হয়েছিল কি না, সে তথ্যও সংগ্রহ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। রাজউকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘তালিকা প্রণয়নে এসব নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে। এই তালিকা গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

 

"