নবগঠিত ৫৩নং ওয়ার্ড

তুরাগের রাস্তায় খানাখন্দ দুর্ভোগের শেষ নেই

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

বদরুল আলম মজুমদার

রাজধানীর তুরাগে ৫৩নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। খানাখন্দে ভরা ওই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন শত শত মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। সরকারের উন্নয়ন রাজধানীর অন্য এলাকার মানুষকে স্বস্তি দিলেও তুরাগের মানুষ সেই উন্নয়নের আলো থেকে বঞ্চিত। ওই এলাকার এক ভুক্তভোগী জানান, ‘এ এলাকার জনপ্রতিনিধিরা রাস্তার উন্নয়নে নজর দেন না। গত ২০ বছর ধরে এ রকম কষ্ট করেই চলছি। এ দুর্ভোগের শেষ নেই।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর উত্তরা পার্শ্ববর্তী তুরাগের প্রায় সবকটি রাস্তা চলাচলের যোগ্যতা হারিয়েছে। অধিকাংশ সড়কে বড় বড় গর্ত ও খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু অংশে খোয়া-বালু দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করা গর্তগুলো পুরোনো চেহারায় ফিরে এসেছে। রাস্তার দুই পাশের ভর্তি হয়ে যাওয়া নিষ্কাশন নালার পানি ও গর্তের খোয়া-বালু উঠে গোটা এলাকা সয়লাব হয়ে গেছে। রাস্তায় হেঁটে চলাও কঠিন।

বিশেষ করে আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুলের রাস্তাটি গত ১৫ দিন ধরে হাঁটুপানিতে ডুবে আছে। ওই রাস্তা দিয়েই স্কুলে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

স্কুলের প্রধান ফেসিলেটর আরিফুর রহমান শামীম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, গত ১৫ দিন ধরে আমাদের স্কুলের রাস্তাটি পানির নিচে ডুবে আছে। এজন্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা ছেড়ে দেবে।

সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৩নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়কই এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ফুলবাড়িয়া পূর্ব এলাকা থেকে নলভোগ কবরস্থান রোড, সবুজছাতার মোড় থেকে সিরাজ মার্কেট চৌরাস্তা, সবুজছাতার মোড় থেকে সিরাজ মার্কেট ধরঙ্গাটেক চৌরাস্তা, ধরঙ্গারটেক চৌরাস্তা থেকে আকিজ স্কুল হয়ে নলভোগের রাস্তা, রমজান মার্কেট থেকে ধরঙ্গারটেক চৌরাস্তা, রমজান মার্কেট থেকে বামনার টেক হয়ে বটতলা পর্যন্ত, বটতলা উইপি মোড় হয়ে রানা ভোলার সবুজ ছাতার মোড় পর্যন্ত, রানাভোলা ৩নং রোড হয়ে তিতাসপাড়া পর্যন্ত রাস্তা, কবরস্থান রোড হতে তারার টেক পশ্চিম মাথা পর্যন্ত রাস্তা, কবরস্থান হতে হাজীবাড়ী মোড় হয়ে মৌলভীবাড়ী পর্যন্ত রাস্তাগুলো সবই পানির নিচে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচল করতে গিয়েও মানুষ পড়ছে দুর্ঘটনায়।

ফুলবাড়িয়া সিরাজ মার্কেট এলাকায় একটি স্কুলে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর নিত্যদিনের ভোগান্তি এখন জলাবদ্ধতা। দিন দিন স্কুলে শিক্ষার্থী না আসতে পারায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রতিভা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও তুরাগ থানা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শফিউদ্দিন শফি বলেন, ‘কী বলব, কিছু বলার ভাষা আমাদের নেই। তুরাগের সবকটি রাস্তা খালে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে যেন কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।’

নয়ানগর থেকে ধরঙ্গারটেক হয়ে রানাভোলা সড়কটির গত ৮ বছরেও কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তাই এ সড়কে কেউই কোনো কাজে আসতে চায় না। বছরের অধিকাংশ সময় রাস্তাটি ময়লা পানিতে ডুবে থাকে।অন্যদিকে অধিকাংশ রাস্তায় সুয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকায় বাসা-বাড়িতে ব্যবহার হওয়া পানির চাপও বাড়ছে রাস্তায়। এ অবস্থায় বৃষ্টি না থাকলেও রাস্তার পানি সরে না।

এরই মধ্যে বৈশাখের আগমনের আগে অল্প বিস্তর বৃষ্টি। শুরু থেকেই তুরাগের সবকটি প্রধান সড়ক পানিতে ডুবে আছে। এলাকাবাসীর অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বৃষ্টি এখনো শুরুই হয়নি। এই অল্প বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটুপানি হলে সামনের বর্ষায় কী হবে তাই ভেবে কূল পাচ্ছি না। এছাড়া চলাচলের একাধিক কাঁচা রাস্তা ধসে গেছে। নতুন কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেও তার কোনো উদ্যোগ আমরা দেখিনি। সড়কের এ বেহাল দশায় এলাকার গণ্যমান্য কাউকে মাথা ঘামাতেও দেখিনি। এ অবস্থায় মানুষের কথা চিন্তা করার যেন কেউ নেই।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাছির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার ৫৩নং ওয়ার্ডের সবকটি রাস্তার বেহাল দশা। এ ব্যাপারে মেয়রকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তুরাগের রাস্তাঘাট সম্পর্কে মেয়রের ভালো ধারণা রয়েছে। আশা করি তিনি এর একটা প্রতিকার দেবেন।’

 

"