বাতিঘর এক টুকরো সিলেটের প্রতিচ্ছবি

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

মহানগর (সিলেট) প্রতিনিধি

ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর এবার সিলেটে যাত্রা শুরু করেছে সৃজনশীল বইয়ের প্রতিষ্ঠান বাতিঘর। আর এই বাতিঘরে যেই প্রবেশ করবেন সেই মুগ্ধ হবেন। কারণ বাতিঘরের ভেতরেই রয়েছে আরেক টুকরো সিলেটের প্রতিচ্ছবি।

প্রতিষ্ঠানটি প্রবেশের পরই দেখা মিলবে সুরমা নদীর ওপর স্থাপিত ক্বীন ব্রিজ। নদীর পাড়ে ঐতিহ্যবাহী আলী আমজাদের ঘড়ি। এছাড়াও ছোট-বড় দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে ‘বাতিঘর’।

সিলেট নগরের পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকার গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্সের দ্বিতীয়তলায় বিশাল জায়গাজুড়ে নিজেদের সিলেট শাখা চালু করেছে বাতিঘর। গত শুক্রবার থেকে পাঠকদের জন্য বাতিঘর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় জানান বাতিঘরের কর্মকর্তা লিংকন দাশ। শুরু দিন থেকেই পাঠকরা ভিড় করছে এই লাইব্রেরিতে। সৃজনশীল বইয়ের সংগ্রহশালার পাশাপাশি বাতিঘরের সাজসজ্জাও নজর কাড়ছে সিলেটের পাঠক দর্শনার্থীদের।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বাতিঘরে গিয়ে দেখা গেল, নানা ধরনের বিষয়ের বইয়ের সমাহার রয়েছে এতে। সিলেটি ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি কর্নার, ক্যাফে কর্নারসহ বেশকিছু কর্নার রয়েছে। নির্বাচিত লেখক, শিশুকিশোর কর্নার, প্রকাশনা সংস্থার কর্নারের পাশাপাশি এখানে সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বিষয়ের ওপর একটি কর্নার আছে। শিগগিরই বাতিঘরের নামফলক বাংলার পাশাপাশি সিলেটের নাগরী লিপি দিয়েও লেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্রেতাদের জন্য খোলা থাকবে বাতিঘর। দেশি-বিদেশি লক্ষাধিক বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে এখানে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১০ হাজার লেখকের নানা ধরনের বই পাওয়া যাবে এই প্রতিষ্ঠানে। রাফি আদনান নামে এক শিক্ষার্থী তার বন্ধুদের নিয়ে বাতিঘরে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘বাতিঘরের কালেকশন অনেক ভালো। বই কিনতে এসে এখান থেকে কেউ খালি হাতে ফিরবেন না। আমি পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকেই আজ এসেছি। এর আগে চট্টগ্রামের বাতিঘর থেকেও বই কিনেছিলাম।’ প্রিয়া আচার্য্য নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, ‘সিলেটে সুন্দর পরিবেশে বড় পরিসরে বই কেনার মতো প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। আমরা সাধারণত বইয়ের দোকানে গিয়ে বিক্রেতাকে বইয়ের নাম বলে বই কিনি। এভাবে পড়ে বই কেনার সুযোগ সিলেটের খুবই কম। এক্ষেত্রে বাতিঘরকে অনেক আকর্ষণীয় মনে হয়েছে আমার কাছে।’

সিলেট বাতিঘরের দায়িত্বরত লিংকন দাশ বলেন, ‘যথেষ্ট উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে আসছেন সবাই। বই কিনছেন ছবি তুলছেন সমানতালে। বাতিঘরে এসে ক্রেতা, দর্শনার্থী সবারই উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করেছি এই দুই দিনে। আশা করছি বাতিঘরের সিলেটের যাত্রা ভালো হবে।’

বাতিঘরের স্বত্বাধিকারী দীপঙ্কর দাশ বলেন, ‘পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বাতিঘরের শাখা করি। সিলেটে বইপড়ার অনেক মানুষ আছেন। সিলেটের বেশ কয়েকজন মানুষ এখানে শাখা করার জন্য বলেন। এছাড়া আমি মনে করি দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি মানসম্মত বইয়ের দোকান থাকা প্রয়োজন। তাই সিলেটে যাত্রা শুরু করেছে বাতিঘর। এ সময় বই বিপণনে নতুনত্ব এনে দেশজুড়ে পাঠক সমাজ গড়ে তোলাই লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

 

"