রামেকের সিটিস্ক্যান মেশিন তিন মাস ধরে বিকল

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

এস এইচ এম তরিকুল, রাজশাহী

উত্তরবঙ্গের প্রায় আটটি জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। তবে সেবা নিতে এসে প্রায়ই তারা বিড়াম্বনার শিকার হন। এর মধ্যে হাসপাতালে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেশিন হচ্ছে সিটিস্ক্যান মেশিন। মাথায় বড় ধরনের আঘাত পাওয়া রোগীদের আঘাতের পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য চিকিৎসকরা সিটিস্ক্যান করাতে দেন। তবে রামেক হাসপাতালে সিটিস্ক্যান মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।

সরকারি এ হাসপাতালে সিটিস্ক্যান করানো হতো দুই হাজার টাকায়। এখন বাইরে সে পরীক্ষা করাতে গুনতে হচ্ছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।

অভিযোগ রয়েছে প্রায়ই হাসপাতালের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মেশিন নষ্ট থাকে। আর মেশিন নষ্ট থাকায় মাঝে মাঝে রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ওপর চড়াও হয়ে ওঠেন।

গত বছরের ১ নভেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগী মারা যাওয়ার ৩০ মিনিট পরও ইসিজি মেশিন নষ্ট থাকায় রিপোর্ট দিতে ব্যর্থ হন কর্তব্যরতরা। এ ঘটনায় কর্তব্যরত চিকিৎকের সঙ্গে রোগীর স্বজনের বাগ্্বিত-ার সৃষ্টি হয়। এরপর আধা ঘণ্টা মেশিনটি নাড়াচাড়া করার পর সেখানকার কর্মচারী জানান মেশিনটি নষ্ট। পরে ৩২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ইসিজি করে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়। এরই কিছুদিন পর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেশিন নষ্ট থাকায় স্পষ্ট ফলাফল না পাওয়ায় রোগীকে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠানোর কিছুক্ষণ পর মারা যাওয়ায় রোগীর স্বজনরা চিকিৎসককে হেনেস্তা করেন।

এদিকে ভোগন্তিতে পড়া স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে এমনিতেই সর্বক্ষণ সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই, তারপরও সিটিস্ক্যানের যে মেশিনটি আছে, তা নষ্ট থাকায় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রোগীর স্বজনদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তেমন রোগীকে হাসপাতালের বাইরে নিতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

সিটিস্ক্যান মেশিনের বিষয়ে রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এনামুল হক শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘এ ধরনের মেশিন সারানের মতো টেকনেশিয়ান বা ইঞ্জিনিয়ার এখানে নেই। আবার প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংস এখানে পাওয়া যায় না। সে জন্য কিছুটা দেরি হচ্ছে।’ কত দিনের মধ্যে মেশিনটি ঠিক করা হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি দেওয়াসহ সব কাজ করা হয়েছে। কবে ঠিক হবে তা সঠিক বলা সম্ভব নয়।’

 

"