‘রাজশাহীকে ঢাকার মতো অবস্থায় দেখতে চাই না’

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

বিশেষ প্রতিবেদক, রাজশাহী

‘উন্নয়ন পরিকল্পনা দেখে উচ্চভিলাষী মনে হতে পারে। তবে আজ থেকে ২০ বছর পর এটি মনে হবে প্রয়োজন। রাজশাহীকে ঢাকার মতো অবস্থায় দেখতে চাই না।’ গতকাল সোমবার রাজশাহীর উন্নয়নের লক্ষ্যে চীনা কোম্পানি ‘পাওয়ার চায়না’র প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। সভায় পাওয়ার চায়না কোম্পানির অ্যান্ডু পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া উপস্থাপন করেন। এ সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন তুলে ধরা হয়।

মেয়র বলেন, সুন্দর-মনোরম রাজশাহী তৈরিতে মাস্টারপ্ল্যান করছি। নতুন প্রজন্মের জন্য রাজশাহীকে প্রস্তুত করে রেখে যেতে চাই। এরই মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে রাজশাহীর অনেক সুনাম আছে। আমাদের সবদিকে আরো এগিয়ে যেতে হবে। পাওয়ার চায়নার সঙ্গে আগামীতে সভা হবে। মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত হবার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতিক্রমে কাজ শুরু হবে। আমরা দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে চাই।’

জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশে নিযুক্ত চায়না রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জ্যুয়ো রাজশাহীতে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এরপর তিনি পাওয়ার চায়না নামের একটি কোম্পানির প্রতিনিধিকে মেয়রের কাছে পাঠান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ জানুয়ারি কোম্পানিটির সঙ্গে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের প্রথম সভা এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত। সভায় পাওয়ার চায়না সিটি করপোরেশনের চাহিদা অনুযায়ী মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে উন্নয়ন কাজে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার উভয় পক্ষের মধ্যে তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হলো। উন্নয়ন প্রজেক্টে অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন করবে পাওয়ার চায়না।

মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, প্রথমত : পদ্মা নদীর ধারে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে সেখানে বিনোদনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা। দ্বিতীয়ত : রাজশাহীতে জেনারেল এবং স্পেশালাইজড হাসপাতাল গড়ে তোলা। তৃতীয়ত : হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকনিক্যাল সুবিধা বাড়ানো। চতুর্থত : ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। পঞ্চমত : গণপরিবহন, সম্প্রসারিত রাস্তা, আলোকায়ন, অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল ও ফ্লাইওভার করার কথা রয়েছে। উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্তের পর সিটি করপোরেশন ও পাওয়ার চায়নার মধ্যে এমওইউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান, রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু, প্যানেল মেয়র-৩ তাহেরা বেগম, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম-উল আযিম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাওগাতুল আলম, সচিব রেজাউল করিম, প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা শাহানা আখতার জাহান, এডিসি (রাজস্ব) নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মান্নান, আরডিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) রবিউল ইসলাম, নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী হাসিনা দিলরুবা, রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলী মুহম্মাদ আলী, এলজিইডি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্বাহী আবু বকর সিদ্দিক, পিডব্লিউডি রাজশাহী ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সানিউল হক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবিরসহ সংশ্লিষ্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

"