রাসিকের বর্জ্য থেকে ডিজেল উৎপাদন

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

এস এইচ এম তরিকুল, রাজশাহী

মহানগরীর বর্জ্যরে মধ্যে ১৫ শতাংশ থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে ডিজেল এবং এলপিজি গ্যাস তৈরি করতে যাচ্ছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েস্ট টেকনোলজি এলএলসি কোম্পানির সঙ্গে এরই মধ্যে সমঝোতা স্মারক করেছে রাসিক। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ১ লিটার ডিজেল উৎপাদনে ব্যয় হবে ২৫ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে আড়াই বছর। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। তবে সরকারি অর্থায়নে নয়, ২০২১ সালের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এলএলসি কোম্পানি।

রাসিকের সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতিদিন মহানগরীতে গৃহস্থালি বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩০০ টন। এর প্রায় ১৫ শতাংশই ব্যবহার নিষিদ্ধ ও পরিবেশের জন্য হুমকি প্লাস্টিক-পলিথিন। আর এসব বর্জ্য রাখা হচ্ছে রাসিকের নির্ধারিত ভাগাড়ে। যেটি রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাইপাস সড়কসংলগ্ন মহানগরীর ‘সিটি পশুহাট’ এলাকায়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অক্ষত থেকে এই প্লাস্টিক-পলিথিন কৃষি ও পরিবেশের মারাত্মক বিঘœ ঘটাচ্ছে।

সূত্র মতে, ১৯৯৫ সালে ১২ একর আয়তনের এই ভাগাড়ে বর্জ্য ডাম্পিং শুরু করা হয়। কিন্তু কোনো ধরনের শোধন ছাড়াই দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে বাড়ছে বর্জ্যরে স্তূপ। এতে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে নগরীর ভেতরেও। তবে পুরো প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন হলে এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। এমন পরিকল্পনা থেকেই ‘কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাসিক। পরিকল্পিতভাবে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ এবং নগরীর পরিবেশ উন্নয়ন নিশ্চিত করা এই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।

জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েস্ট টেকনোলজি এলএলসি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে রাসিক। একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠানটি নগরীর বর্জ্যে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে ডিজেল ও এলপিজি গ্যাস তৈরি করবে। এক লিটার ডিজেল উৎপাদনে ব্যয় হবে ২৫ টাকা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে আড়াই বছর। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি রাসিকের ভাগাড়সংলগ্ন জমিতে নিজস্ব অর্থায়নে প্ল্যান্ট পরিচালনা করবে। তাতে বর্জ্য সরবরাহ করবে রাসিক। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটি এই প্ল্যান্ট বসানোর কাজ শুরু করবে। এ তথ্য নিশ্চিত করে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘দিনে দিনে ভাগাড়ে জমছে বর্জ্যরে পাহাড়। এখনই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় না গেলে সংকট আরো বাড়বে। যে কারণে প্লাস্টিক ও পলিথিন বাদে বাকি ৮৫ শতাংশ বর্জ্য থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’ প্রধান প্রকৌশলী আরো বলেন, ‘পরিবেশসম্মত মহানগরী গড়তে বর্তমান মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন আরো অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। বর্তমান মেয়রের মেয়াদেই পর্যায়ক্রমে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আশা করছি।’

 

"