সিলেটে অবৈধ স্ট্যান্ডে সড়ক সংকুচিত : বাড়ছে ভোগান্তি

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

মহানগর (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেট নগরের বেশ কয়েকটি সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্ট্যান্ডের যানবাহন পার্কিংয়ের ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে বাড়ছে ভোগান্তি। পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশদের। যদিও ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুতই এসব সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডকে নিয়মের মধ্যে আনা হবে। স্ট্যান্ডকে নগরের সড়কের মোড় থেকে সরিয়ে আপাতত একটু ভেতরের দিকে আনা হবে, যাতে সড়ক সংকুচিত না থাকে।

নগরের বেশ কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে ২০ বা ৩০টি গাড়ি পার্কিংয়ে রাখার জায়গা রয়েছে, সেখানে শতাধিক গাড়ি থাকছে। এমনকি এসব সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড ছেড়ে সড়কে এসে ভিড় করছে। কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় বর্তমানে যানজট না থাকলেও অবৈধভাবে রাস্তার মাঝখানেই যাত্রী ওঠানামা করছেন।

নগরের অন্যতম ব্যস্ততম স্থান শিশুপার্ক এলাকা। ওই এলাকায় শুধু সিএনজির স্ট্যান্ডই নয়, আছে মাইক্রোবাস ও লেগুনার স্ট্যান্ড। সর্বক্ষণই ওই এলাকায় যাত্রী ওঠানামার ফলে যানজট লেগেই থাকে। নগরের বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও শিশুপার্ক এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ তেমন একটা দেখা যায় না। পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে।

বন্দরবাজার থেকে জেল রোড সড়কের মুখে পথচারীদের নাভিশ্বাসে ফেলে দেয় লেগুনা ও সিএনজি অটোরিকশা। এখানে সব সময়ই সড়কের মাঝখানে যাত্রী ওঠানামানোর কারণে বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকে।

সিলেট নগরের সুরমা মার্কেট এলাকার দৃশ্যতেও নেই কোনো ব্যতিক্রম। একইভাবে অবৈধভাবে যাত্রী ওঠানামা ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের ফলে সারাক্ষণই বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকে। তবে বর্তমানে এ এলাকার সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। সিলেট নগরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা আম্বারখানা। এ এলাকার সড়কের পয়েন্ট থেকে চতুর্মুখেই রয়েছে সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড।

আম্বারখানা থেকে টিলাগড় সড়কে যেসব সিএনজি অটোরিকশা আছে, সেগুলো অবৈধভাবে স্ট্যান্ড গেড়ে বসেছে আম্বরখানা পয়েন্টে। কিছুদিন আগেও বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে পয়েন্টে যাত্রী ওঠানামায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও হঠাৎ করেই তা শিথিল হয়ে পড়ে। বড়বাজার এলাকার সড়ক থেকে যাত্রী না নিয়ে আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে ওঠালে ৫০০ টাকা জরিমানাসহ কঠোর নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়। এর পরও অল্পদিনের মধ্যেই সে নিয়ম অকার্যকর হয়ে পড়ে।

নগরের আম্বরখানাতেই অন্য একটি সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড সুনামগঞ্জ সড়কে। এই স্ট্যান্ডের কারণে সব সময় সড়কে যানজট লেগে থাকে। স্ট্যান্ড ম্যানেজার বা সংশ্লিষ্ট কাউকেই এই জটিলতা নিরসনে উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে বিমানবন্দর, সাহেববাজার, কোম্পানীগঞ্জ, টুকেরবাজারসহ বেশ কটি স্থানের জন্য আম্বরখানায় নির্ধারিত সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডে জট লেগেই থাকে। এ স্থানে জট লেগে থাকার অন্যতম কারণ অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আম্বরখানা থেকে বিমানবন্দর সড়কের শতাধিক সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনবিহীন। এসব অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা থেকে পুলিশ নিয়মিত বখরা পায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এ কারণেই বিমানবন্দর পুলিশ, আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ি এসব অবৈধ সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় নাÑ এমনটাও অভিযোগ রয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) নিকুলিন চাকমা বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি থেকে অসাধু কর্মকর্তারা বখরা নেন এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। যদি কেউ তথ্য-প্রমাণসহ আমাদের অভিযোগ করেন, অবশ্যই আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে কোনো ধরনের স্ট্যান্ডকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবু দীর্ঘদিন ধরে এই স্ট্যান্ডগুলো অবস্থান করছে। আমরা বর্তমানে এসব স্ট্যান্ডকে মোড় থেকে সরিয়ে নিয়ে আরো ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এই স্ট্যান্ডগুলোর গাড়িগুলোও থাকবে একই সারিতে।’

ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ির বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। স্ট্যান্ডে এসব গাড়ি পেলেই আমরা রেকারিং করি। বিশেষ করে বিমানবন্দর সড়কের স্ট্যান্ড থেকে বেশ কিছু গাড়ির রেকারিং করা হয়। পাশাপাশি আমাদের যারা ট্রাফিক পুলিশ সড়কে থাকে তাদের মূল কাজ থাকে তখন যানজট নিয়ন্ত্রণ। মাঝেমধ্যে সার্জেন্ট সময় পেলে নম্বরবিহীন এসব গাড়ির বিরুদ্ধে ফোর্স নিয়ে অভিযান চালান।’

 

"