সরঞ্জাম পৌঁছেছে ৯৫ ভাগ

শিগগিরই চালু হবে খুলনা নার্সিং কলেজ

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

খুলনা ব্যুরো

শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে খুলনা নার্সিং কলেজ। কলেজটি চালুর লক্ষ্যে সীমানা প্রাচিরের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে চলছে। চলছে মাটি ভরাটের কাজ। কলেজের আসবাবপত্র ও সরঞ্জামও পৌঁছে গেছে। চলতি ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তির মধ্য দিয়ে কলেজটি যাত্রা শুরু করবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।

খুলনা নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ খালেদা বেগম বলেন, চলতি ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কলেজে শিক্ষার্থীদের ভর্তির মধ্য দিয়ে কলেজটি যাত্রা শুরু করবে। এ জন্য কলেজের সীমানপ্রাচীর নির্মাণকাজ ও কলেজের উঁচুনিচু মাঠ সমতল করার জন্য মাটি ভরাটের কাজও চলছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলেই মার্চ মাসে ডিজির সঙ্গে আলোচনা করে কলেজটি চলতি শিক্ষাবর্ষে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রশাসনিক ও হোস্টেলের কিছু কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এগুলোও যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় সে ব্যাপারেও কথাবার্তা চলছে।

নার্সিং কলেজ অফিস সূত্রে জানা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ১০ একর জমির ওপর ১৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটির নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায় ২০০৯ সালে। ওই সময় একটি একাডেমিক ভবন, একটি গেস্টহাউস, কলেজছাত্রীদের জন্য দুটি হোস্টেল ও ২য় ও ৩য় শ্রেণি পদে কর্মরতদের তিনটি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণকাজের অধিকাংশ সম্পন্ন করা হয়। ২০১১ সালে একাডেমিক ভবন চালুর উদ্যোগ নিয়ে ১৩ জন শিক্ষক পদায়ন করা হলেও বর্তমানে একজন প্রভাষকসহ ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন কাগজে-কলমে। তারা সবাই এখনো ডেপুটেশনে রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন প্রভাষক রেবা ম-ল, ডিমোনেস্ট্রেটর আছেন শরিফুল ইসলাম, আসমাতুল নেছা, আলেয়া বেগম ও জুথিকা রানী মুখার্জি।

তাদের মধ্যে আবার শিক্ষাছুটি এবং বাকিরা প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত। এ ছাড়া ৩য় শ্রেণিতে ১২ জন কর্মরত আছেন। যার মধ্যে প্রেষণে আছেন দুজন। কর্মরত আছেন ১০ জন। তারা হচ্ছেন ল্যাব সহকারী ৪ জন, কম্পিউটার অপারেটর ২ জন, স্টোর কিপার ১ জন, ড্রাইভার ১ জন, হিসবারক্ষক ১ জন ও ক্যাশিয়ার ১ জন।

কলেজের হিসাবরক্ষক নীতিশ চন্দ্র রায় বলেন, কলেজটি চালুর লক্ষ্যে এরই মধ্যে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও সরঞ্জামের প্রায় ৯৫ শতাংশ কলেজে পৌঁছে গেছে। বাকি ৫ ভাগ এ মাসেই চলে আসবে। এরই মধ্যে ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং চেয়ার, কাঠের টপ চেয়ার, উডেন খাট, ডাইনিং টেবিল, টেবিল ফর পেন্টি, টিভি স্ট্যান্ড, উডেন রাইটিং চেয়ার, রিডিং টেবিল (৪ জন বসার), রিডিং টেবিল (৮ জন বসার), রিডিং চেয়ার (হাতলছাড়া), উডেন আলমারি, বুক সেলফ, ফুল সেক্রেটারিয়েট টেবিল, হাতলযুক্ত কুশন চেয়ার, হাতলযুক্ত কাঠের চেয়ার, ডেস্ক টেবিল, উডেন আলমারি, সোফাসেটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র চলে এসেছে।

খুলনা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের (এইচইডি) সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ১২ একর জমির ওপর ১৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে নার্সিং কলেজ এবং ১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে আইএইচটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজের দুই বছরের মাথায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে ৩০ মাসের মধ্যে হোস্টেল ও আবাসিক ভবনগুলো এবং ১৮ মাসের মধ্যে একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও কলেজের ৯৫ ভাগ এবং আইএইচটির ৪৬ ভাগ শেষ হওয়ার পরও বাকি কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। ২০০৭ সালে নির্মাণ করা হয় একটি গেস্টহাউন, অধ্যক্ষের বাসভবন, তিনটি স্টাফ কোয়ার্টার, একটি একাডেমিক ভবন এবং দুটি হোস্টেল ভবন। কলেজটি চালুর জন্য ২০১১ সালে ১৩ জন শিক্ষক পদায়ন করা হলেও বর্তমানে কাগজ-কলমে মাত্র ৫ জন রয়েছেন।

 

"