খাদ্যে ভেজাল দিলে জেলে নেওয়া হবে : সাঈদ খোকন

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

খাদ্যে ভেজাল মেশানোর দায়ে এখন থেকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি কারাদন্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, ‘খাদ্যে ভেজালের জন্য বিগত দিনে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু এর তেমন সুফল পাওয়া গেছে বলে আমরা মনে করছি না। এজন্য এখন থেকে যেসব প্রতিষ্ঠানে খাদ্যে ভেজাল পাওয়া যাবে, সেই প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি কারাদন্ড দেওয়া হবে। সেটা প্রতীকী হলেও, কয়েক দিনের জন্য হলেও, সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জেল খাটতে হবে।’ গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় ধানমন্ডিতে ভেজালবিরোধী অভিযান শুরুর আগে সাঈদ খোকন এসব কথা বলেন।

ভেজালবিরোধী অভিযানে যুক্ত সবাইকে তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে ভেজালবিরোধী অভিযানে আমরা কঠোর হব। ভেজালবিরোধী অভিযান ঘোষণা হওয়ার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান বা দোকান যদি বন্ধ রাখা হয়, আমরা যদি তা জানতে পারি, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’

আগামী সাত কর্মদিবস ধানমন্ডি এলাকায় খাদ্যে ভেজালবিরোধী বিশেষ অভিযান চলবে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, ‘ঢাকা শহরে যেসব বিলবোর্ড লাগানো হয়েছিল নির্বাচনের জন্য সেসব মোটামুটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। হয়তো দুই-একটি থাকতে পারে। সেগুলোকেও সরিয়ে ফেলা হবে।’

ভেজালবিরোধী অভিযানের শুরুতেই মেয়র নিজে উপস্থিত থেকে ধানমন্ডির স্টার কাবাবে অভিযান চালান। কিন্তু কোনোকিছু না পেয়ে তিনি চলে যান। যাওয়ার সময় অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য ভেজালবিরোধী টিমকে নির্দেশনা দেন। দিনব্যাপী এই অভিযান চলবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে আগাম ঘোষণা দিয়ে ভেজালবিরোধী অভিযান শুরু করায় সমালোচনা করেছেন ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দারা। এই এলাকার বাসিন্দা ও একটি ব্যাকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অগ্রিম ঘোষণা দিয়ে ভেজালবিরোধী অভিযান চালালে কেউ কী ভেজাল নিয়ে বসে থাকবে? সত্যিকার অর্থে খাদ্য ভেজালমুক্ত করতে হলে গোপনেই অভিযান চালাতে হবে যাতে কেউ আগাম খবর না পায়।’

এ সময় মেয়রের সঙ্গে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল শেখ মো. সালাহউদ্দিনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

"