চট্টগ্রামে হাসপাতালগুলোয় বেড়েছে শিশু রোগীর সংখ্যা

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজসহ হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে কয়েক শ রোগী। বেশির ভাগই শিশু যাদের অনেকের বয়স ৫ বছরের নিচে। তবে ২ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি। যার মধ্যে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের মতো শিশু ভর্তি হচ্ছে ঠা-াজনিত রোগে। এর মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণে এক শয্যায় দুজন করে শিশু রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর শীত এলেই দেখা যায় এমন চিত্র।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চমেক হাসপাতালে শয্যা রয়েছে মাত্র ৬৫টি। রোগীর চাপ বাড়ায় এক শয্যায় রাখা হয়েছে দুটি করে শিশু। তা ছাড়া আন্তবিভাগ ছাড়াও বহির্বিভাগেও রোগী ভর্তি রয়েছে। অন্যদিকে নগরীর অন্য একটি প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালেও রোগী বেড়েছে। এই হাসপাতালে শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে ২৫০ শয্যা রয়েছে। সবগুলো শয্যায় শিশু রোগী ভর্তি।

চকরিয়া চরম্বা থেকে শিশুকন্যা মেহেরুনকে নিয়ে এসেছেন আবদুল খালেক। তিনি বলেন, গত রোবরার (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এক সপ্তাহ ধরে কাশি। স্থানীয় ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু কিছু হচ্ছে না। এখন আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। নগরীর চান্দগাঁও থানার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, পাঁচ দিন আগে আমার ছেলের বুকে কফ জমে গেছে। কাশিও ছিল। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমি ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ছেলেকে ভর্তি করিয়েছি। এখন আগের চেয়ে ভালো। ছেলের ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাওয়ার সময় কথা হয় আতুড়ার ডিপু এলাকার মো. ইদ্রিসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২৪ দিন আগে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ছেলেকে ভর্তি করিয়েছিলাম। এখন আমার ছেলে সুস্থ। ডাক্তাররা কিছু পরামর্শ দিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রণব কুমার চৌধুরী। তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, শীতের শুরু থেকে প্রত্যেকের মা-বাবার শিশুদের প্রতি বাড়তি যতœ নিতে হবে। কোনোভাবে যেন ঠান্ডা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে এক বছরের শিশুদের বাড়তি যতœ নিতে হবে। যাদের ওজন কম তাদের মৌজা, কান টুপি পরিয়ে রাখতে হবে। তিনি বলেন, যাদের ডায়রিয়া হয়েছে, তাদের অবশ্যই স্যালাইন খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ যেন বন্ধ না হয় সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, শীত বেশি পড়লে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে মা-বাবাকে ঠান্ডা যাতে না লাগে সেদিকে নজড় দিতে হবে। তাই শিশুদের উষ্ণ পরিবেশে রাখা, মায়ের বুকের দুধ পান করানোর পাশাপাশি আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন তিনি।

"