‘ড. কামাল স্মৃতিসৌধে যাওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে’

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করে ড. কামাল কেবল বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে যাওয়ার নৈতিক অধিকারই হারাননি, বুদ্ধিজীবী হত্যা, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কথা বলার অধিকারও হারিয়েছেন।’ গতকাল শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘জিয়া-খালেদার পর ড. কামাল এখন যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্র ও সমাজে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন। আর এই অপরাধবোধ থেকেই সম্ভবত তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে ক্ষেপে গিয়েছিলেন। তার মনে রাখা উচিত, ধমক দিয়ে এক মুখ বন্ধ করা যায়, কিন্তু কোটি মানুষের মুখ বন্ধ রাখা যায় না। শুধু সাংবাদিকদের কাছে নয়, দেশবাসীর কাছে তারই ক্ষমা চাইতে হবে।’

সাংবাদিকদের টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন করা প্রসঙ্গে মেনন বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী হত্যা নিয়ে প্রশ্ন করায় ড. কামাল যদি একজন সাংবাদিককে হুমকি দিতে পারেন, কত টাকা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করছে বলে জিজ্ঞেস করতে পারেন। তাহলে আমরাও তাকে একই প্রশ্ন করতে পারি যে, তিনি কত টাকার বিনিময়ে যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় বসাতে মাঠে নেমেছেন। ক্ষমতায় যাবার লোভে ড. কামালরা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। তারা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাÑ আইএসআইএ এর সঙ্গে আঁতাত করে রাজাকার আলবদরদের দোসরদের ক্ষমতায় নিতে চায়।’

যুদ্ধাপরাধী সন্তানদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে রাশেদ খান মেনন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা যেমন আমাদের স্বাধীনতাকে কখনোই মেনে নিতে পারেনি ঠিক তেমনি তাদের বংশধররাও আমাদের স্বাধীনতার অস্তিত্ব মানে না। অথচ ড. কামাল হোসেনদের মতো কিছু তথাকথিত স্বাধীনতার সপক্ষের লোকেরা আজ স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে কেবল ঐক্যই করেনি তাদের ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য ধানের শীষ মার্কায় নমিনেশনও দিয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলের উপাচার্য ড. কণক কান্তি বড়–য়া, বিএমএ’র মহাসচিব ড. ইহতেশাম আলমগীর, সাবেক সভাপতি সোহরাব আলী, বিএমএ সদস্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ডা. জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

 

 

"