তাপসকে কি ভুলেই গেল চবি ছাত্রলীগ!

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রিয়াজ মুন্না, চবি
ama ami

চার বছরেই নিহত কর্মীকে ভুলে গেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী চত্বরে শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়া নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে। এতে নিহত হন সংস্কৃত বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকার।

প্রতি বছর বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে তার স্মৃতিচারণা করা হলেও এ বছর নেই কোনো আয়োজন। তাপসকে ভুলে গেছে তার সহপাঠী, বিভাগ এমনকি তার ভালোবাসার সংগঠন ছাত্রলীগ।

চার বছর পার হলেও এখনো ধরা পড়েনি তাপস হত্যার চার্জশিটভুক্ত বেশির ভাগ আসামি। গত বছর পিবিআই কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও এখনো পর্যন্ত প্রশাসন কাউকে আটক করতে সক্ষম হয়নি। আসামিদের বিরুদ্ধে একাডেমিকভাবেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। তবে মামলার অন্যতম আসামি আশরাফুজ্জামান আশা গত বছরের ৪ অক্টোবর আত্মসমর্পণ করেন। গত বছরের ২ মে চার্জশিট প্রতিবেদনে আশাসহ ১৫ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছিল। যাদের অনেকেই এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাধে বিচরণসহ সক্রিয় রয়েছেন চবির রাজনীতিতে।

শুধু তাই নয়, সদ্য বিলুপ্ত কমিটির পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন অনেকে। এদের মধ্যে মামলার চার্জশিটভুক্ত ৭ নম্বর আসামি রাশেদ হোসাইন ও ১০ নম্বর আসামি রেজাউল করিম সহসভাপতি এবং ৮ নম্বর আসামি মিজানুর রহমান বিপুল উপ-দফতরবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। যারা তৎকালীন সময়ে সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমানে তারা সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে সমাদৃত।

চার্জশিটভুক্ত ১৮ নম্বর আসামি জাহেদুল আউয়ালও বিগত কমিটিতে অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। তবে চার্জশিটভুক্ত ৭ ও ১০ নম্বর আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

অন্যদিকে তাপসের পরিবারের যেকোনো একজনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এর কোনো খবর নেই। গত এক বছরে নেওয়া হয়নি তার পরিবারের খোঁজ। অসহায় এ পরিবারটি বর্তমানে অর্থাভাবে দিন কাটাচ্ছে। এখনো ভুলতে পারেনি পরিবারের একমাত্র শিক্ষিত তাপস সরকারকে। এ বিষয়ে তাপসের ছোট ভাই শ্রাবণ সরকার প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, গত চার বছরে মাত্র একবার যোগাযোগ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর আর কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত কাউকে চাকরি দেওয়া হয়নি। পরিবারের অবস্থা আগের চেয়েও আরো বেশি খারাপ যাচ্ছে। চাকরি প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

"