বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সিট সংকট

ঝুঁকি নিয়ে মেসে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মাসুদ রানা, বরিশাল
ama ami

হলে সিট সংকটের কারণে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। তাই ঝুঁকি নিয়ে মেসে থাকতে হচ্ছে তাদের। এদিকে, ২০১৮-১৯ সেশনের নতুন শিক্ষার্থী যোগ হলে এ সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করবে বলে জানা যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাত্র তিন ছাত্রবাসে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বর্তমানে আবাসিক হল রয়েছে মাত্র তিনটি। এগুলো হলো বঙ্গবন্ধু ছাত্রাবাস, শেরেবাংলা ছাত্রাবাস এবং শেখ হাসিনা ছাত্রীনিবাস। প্রতিটি ছাত্রাবাসে ২৫০ জনের ধারণক্ষমতা থাকলেও প্রতি সিটে দুজন করে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে এক হাজার ৫০০ জন। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে ছয়টি অনুষধের অধীনে ২৪টি বিভাগে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর অধ্যায়ন করে পাশাপাশি ২০১৮-১৯ সেশনে নতুন যোগ হচ্ছে আরো প্রায় এক হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী। যাদের জন্য রয়েছে মাত্র তিনটি আবাসিক হল। তবে সেখানে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন মাত্র দেড় হাজার শিক্ষার্থী।

এ অবস্থায় আবাসন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য আসা অবশিষ্ট পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই পাঠ্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তাদের অনেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মেসে থাকেন। অনেকের পক্ষে মেসে থাকা-খাওয়ার খরচ জুগিয়ে পড়ালেখা করাও কষ্টকর। এ কারণে বিপাকে পড়েছেন এখানকার অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নতুন এই হল তিনটিতে কার্যক্রম শুরু হয়। নামাজের স্থান এবং রিডিং রুম একই কক্ষে হওয়ায় ছাত্রদের সমস্যা পোহাতে হয়। হলগুলোর প্রতিটি কক্ষে চারটি করে সিট রয়েছে। কিন্তু প্রতি সিটে দুজন করে আটজন শিক্ষার্থীকে অবস্থান করতে হয়। এজন্য তাদের একে অপরের বেড, চেয়ার ও পড়ার টেবিল সমন্বয় করতে হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র রফিকুল ইসলাম জানান, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সুযোগ-সুবিধা খুবই কম। এজন্য একাধিক ছাত্র এবং ছাত্রী হল নির্মাণ করা শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি। হলের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি মেয়েদের থাকার জন্য আরো হল দরকার বলে জানান শেখ হাসিনা হলের একাধিক ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, হলে সিট না পেয়ে মেসে থাকতে হচ্ছে তাদের। এজন্য প্রতি মাসে মেস ভাড়া, খাবার ও যানবাহন খরচ মেটাতে পরিবারের কাছ থেকে অনেক টাকা আনতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই এ হলগুলো নির্মাণ করায় আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় মেসে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল আহম্মেদ রুমি বলেন, আবাসন সংকট সমাধানে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল পরিচালনা কমিটির প্রভোস্ট রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলে শিক্ষার্থীরা থাকছেন। মেয়েদের জন্য নতুন একটি হল নির্মাণকাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে আরো হল স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।

"