শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যতিক্রম আয়োজন

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আট বছরের রুমাইসা আর সাড়ে চার বছরের রাহীল। দুজনই মোবাইল গেমসে এক্সপার্ট। খেলাধুলা মানেই তাদের কাছে মোবাইলে নয়তো ইউটিউবে গেমস খেলা। আর তিন-চার মাসে একদিন বিকেলে হয়তো বিমান জাদুঘর নয়তো চন্দ্রিমা উদ্যানে একটু ঘোরাফেরা। নিয়মিত দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, ফুটবল, ক্রিকেট খেলার আনন্দ তাদের নাগালের বাইরে। কারণ মিরপুর শেওড়াপাড়ায় তাদের বাসার আশপাশে সুষ্ঠু পরিবেশে খেলার কোনো মাঠ নেই। এ অবস্থা রাজধানী ঢাকা শহরের প্রায় সব শিশু-কিশোরেরই। পর্যাপ্ত ও ব্যবহার উপযোগী মাঠের অভাবে অনেকটা গৃহবন্দি ও নিঃসঙ্গ হয়েই বড় হতে হচ্ছে তাদের। কর্মব্যস্ত এই শহরে বড়রাও বিশেষ করে নারী ও প্রবীণরা সামাজিকভাবে মেলামেশার সুযোগের অভাবে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছেন।

এ অবস্থা উত্তরণে গত এক বছর ধরে ব্যতিক্রমী একটি কর্মসূচি পালন করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এর সঙ্গে চলতি মাসে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশের অন্যতম স্বনামধন্য ব্র্যান্ড সার্ফ এক্সেল। যানজট নিরসন, নগরবাসীর মধ্যে সামাজিকীকরণ বৃদ্ধি এবং খোলা আকাশের নিচে শিশুদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেই মূলত প্রতি মাসে একদিন ‘ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ’ শিরোনামে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতায় গত বছর ১০ নভেম্বর থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশ প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই তিন ঘণ্টা সময় শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এখানে এসে নিজের মতো খেলাধুলা, শরীর চর্চা, ব্যায়াম, সাইকেল চালানো, আড্ডাসহ নানা রকম সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেন। আয়োজকরা খেলাধুলার কিছু সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে রাখেন। তবে অধিকাংশ মানুষই নিজের ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট ইত্যাদি নিয়ে এসে এখানে খেলাধুলা করেন। আগামী ৭ ডিসেম্বর এই কর্মসূচির এক বছর পূর্তি উদ্্যাপন করা হবে। ওইদিন স্বাভাবিক কর্মসূচির সঙ্গে ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড সার্ফ এক্সেলের পক্ষ থেকে শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন থাকবে। এ আয়োজন সম্পর্কে ইউনিলিভার বাংলাদেশের মার্কেটিং ডিরেক্টর তানজিন ফেরদৌস আলম বলেন, খেলাধুলা শিশুদের অন্যতম প্রধান অধিকার। এই বিশ্বাস থেকে সার্ফ এক্সেল মনে করে, প্রতিভা বিকাশে শিশুদের এই অধিকার রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ খেলার মাধ্যমেই শিশুরা অনেক কিছু শিখে। আর এভাবে শিখতে গেলে কাপড়ে কঠিন দাগ লাগতেই পারে। সেই দাগ দূর করে শিশুদের আবার তাদের জগতে ফিরে যেতে সাহায্য করে সার্ফ এক্সেল।

কর্মসূচি সম্পর্কে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান জানান, ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের এই দিবস পালনের অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়ক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ মাসে অন্তত একটি দিন গাড়িমুক্ত রাখার ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেই ঘোষণা অনুযায়ী সে বছর নভেম্বরে প্রথম এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর থেকে প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার এ কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। এ কর্মসূচিতে গড়ে প্রায় ৫০০ লোক সমবেত হচ্ছে। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মাঠ ও পার্কের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে কম ব্যস্ত সড়ক ও গলিপথগুলোকে অন্তত মাসে এক দিন কিছু সময় খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখতে এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে যানজট নিরসন ও হাঁটার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সময় বাড়ানোর পাশাপাশি এই কর্মসূচি বিকেলের দিকে নেওয়ার এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

 

"