জাবি ক্যাম্পাসে অতিথি পাখির আগমন

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

জাবি প্রতিনিধি

অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস। শীতের শুরুতেই ক্যাম্পাসে আগমন ঘটে অতিথি পাখির। আর শীত বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি লেকে অতিথি পদচারণা ছড়িয়ে পড়েছে। যা বাড়িয়ে দিয়েছে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য।

এ বছর অক্টোবরের শুরু থেকে ক্যাম্পাসের লেকে অতিথি পাখি আসতে শুরু করে। তখন খুব কমসংখ্যক অতিথি পাখি আসে। তবে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসে অতিথি পাখির সংখ্যা বেড়েছে। যদিও বিগত বছরগুলোর মতো এবার অতিথি পাখির সংখ্যা খুব বেশি নয়।

সরেজমিন দেখা যায়, ক্যাম্পাসের পরিবহন চত্বরের পেছনের লেক, পুরনো রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেকে বেশকিছু অতিথি পাখি রয়েছে। তবে বিগত বছরের মতো সুইমিংপুল সংলগ্ন ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় লেকে তেমন একটা অতিথি পাখি নেই। লেকটি কচুরিপনা-আগাছায় ভরে থাকায় এই লেকে দু-চারটি অতিথি পাখি দেখা যাচ্ছে। এসবের বাইরে ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের ভেতরের সংরক্ষিত লেকে অতিথি পাখি রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাসে আসা অতিথি পাখির প্রায় সবই ‘ছোট সরালি’ প্রজাতির। ক্যাম্পাসে সাধারণ এই পাখিই বেশি আসে। গতবার ৬ প্রজাতির প্রায় ৫ হাজার হাঁস জাতীয় অতিথি পাখি এসেছিল।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট বড় ১৫/১৬টি লেক থাকলেও মাত্র ৩টি লেক অথার্ৎ প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেক, জাহানারা ইমাম ও প্রীতিলতা হল সংলগ্ন লেক এবং মীর মোশারফ হোসেন হল সংলগ্ন লেকগুলোতে অতিথি পাখির পদচারণা বেশী থাকে। এ মৌসুমেও এসব লেকে অতিথি পাখিদের পদচারনা নজর কেরেছে দর্শনার্থীদের। ফলে এ লেকগুলোকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রতিবছর উত্তরের শীত প্রধান সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারত থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসে। মুলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এদেশে আসে।

আবার মার্চের শেষদিকে তারা তাদের আপন ঠিকানায় ফিরে যায়। পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, বাংলাদেশে মোট ৬৯০ প্রজাতির পাখির মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রজাতির অতিথি পাখি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রতিবছর ক্যাম্পাসে সাধারনত প্রায় ৬০ প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব পাখি আসে তার মধ্যে বেশির ভাগই হাঁস জাতীয় ও পানিতে বসবাস করে। এর মধ্যে ছোট সরালি, বড় সরালি, খঞ্জনা, পাতারি হাঁস, ভতি হাঁস, খুন্তে হাঁস, লেঞ্জা ইত্যাদি প্রধান।

এরা অতিশীত প্রবণ উত্তর মেরু থেকে নিজেদের বাঁচাতে দক্ষিণের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে আসে। এরা ডানায় ভর করে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এ অঞ্চলে আসে। লাল সীরামিকের সুদৃশ্য অট্টালিকা আর সবুজাভ প্রকৃতির টানে বছর জুড়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীদের সমাগম থাকলেও বর্তমানে তাদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচেপরা ভীর লক্ষ্য করা যায়।

এদিকে প্রতিবছরের মত এবারও এসব অতিথি পাখিদের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগরে পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে বিভিন্ন নির্দেশনা সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রন করার জন্য রয়েছে নিরাপত্তা কর্মীদের সতর্ক অবস্থান।

 

"