প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি

দেড় বিঘা জমি বুঝে পেল ঢাকেশ্বরী মন্দির

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকা দেড় বিঘা জমি অবশেষে বুঝে পেল ঢাকেশ্বরী মন্দির। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দখলমুক্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ২৬ দিনের মধ্যে দখলদাররা মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে জমি হস্তান্তর করে। এখনো অবৈধ দখলে থাকা প্রায় সাড়ে ১২ বিঘা জমি উদ্ধারের দাবি জানান মন্দির কর্তৃপক্ষ। ঢাকেশ্বরী মন্দির বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই শুধু নয়, ঢাকার ঐতিহাসিক প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনও বটে। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় ৮০০ বছর আগে দ্বাদশ শতাব্দীতে স্থাপিত হয় ঢাকেশ্বরী মন্দির। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ভাওয়াল রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় বাহাদুর মন্দিরটিকে ঘিরে ২০ বিঘা জমি রেকর্ডভুক্ত করেন। তারপর বুড়িগঙ্গায় অনেক জল গড়িয়েছে। কালের বিবর্তে দেশ ভাগ হয়েছে ৪৭ এ, ৬৫ র পাক-ভারত যুদ্ধসহ নানাবিধ উসকানিতে নানা মহল মন্দিরের প্রায় ১৪ বিঘা জমি দখল করে। গত মাসে দুর্গাপূজার সময় এই মন্দির পরিদর্শনে এসে প্রধানমন্ত্রী মন্দির লাগোয়া প্রায় দেড় বিঘা জমি দখলমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার অবৈধ মালিকানা ছেড়ে দেন দখলদাররা। সংবাদ সম্মেলনের মন্দির কর্তৃপক্ষ কৃতজ্ঞতা জানালেন।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি বলেন, এখন মন্দিরের মোট জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬.১ বিঘা। ২০ বিঘা জমির মধ্যে আমরা পাঁচ বিঘার কিছু বেশি জমি ভোগ করছিলাম। এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আরো দেড় বিঘা পেলাম আমরা। সেখান থেকে বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্দিরের দক্ষিণ-পশ্চিমের দেড় বিঘা জমি আমরা ফিরে পেয়েছি। অবশিষ্ট ১৩.৯ বিঘা জমি ফিরে পেতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি। জানান, মন্দিরের ভূমি সমস্যা নিয়ে ১৯৬৩ সালে দায়ের হওয়া এক মামলার কার্যক্রম চলছে এখনো। নাভানা গ্রুপের দখলে থাকা দুই বিঘা জমি ছাড়াও পাকিস্তান আমলে মমিন মোটরসের দখলে থাকা তিন বিঘা জমি নিয়ে মামলা নিয়ে লড়াই করছে পূজা উদ্যাপন পরিষদ।

নির্মল চ্যাটার্জি বলেন, দেবোত্তর ভূমি জবরদখল করে অবৈধ বস্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় সরু পথ দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়, এতে মন্দিরের পবিত্রতা যেমন নষ্ট হয়, তেমনি ভক্ত, পর্যটক, এমনকি সরকার, রাষ্ট্র ও বিদেশি দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাও ক্ষুণœ করা হয়।

 

"