কমেছে সবজির দাম স্বস্তিতে মানুষ

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো শীতের সবজি কপি, শিম, মুলা, লাউ, শালগমের পাশাপাশি বিভিন্ন শাকে ভরপুর। শীতের শাকসবজির সরবরাহ বাড়ায় গত সপ্তাহ থেকে আরো কমেছে সব ধরনের সবজির দাম। বেশির ভাগ সবজিই পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। ফলে সবজির দাম আরো কমায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালীর বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা এক পাল্লা (৫ কেজি) শিম বিক্রি করছেন ১০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি শিমের দাম ২০ টাকা। এসব শিম খুচরা বাজারে অঞ্চলভেদে ৩০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যেখানে দুই সপ্তাহ আগেও খুচরা বাজারে শিমের কেজি ছিল ১০০ টাকারও বেশি।

শিমের মতো দামে স্বস্তি দিচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও লাউয়ে। আকার ও মানভেদে খুচরা বাজারে ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ২০-৪০ টাকা পিস, বাঁধাকপি পাওয়া যাচ্ছে ২০-৩০ টাকায়। আর বড় আকারের লাউ পাওয়া যাচ্ছে ২৫-৪০ টাকায়। তবে এসব সবজিতে ক্রেতারা স্বস্তি পেলেও টমেটো ও গাজরের দামে অস্বস্তি রয়েছে। কমতি বাজারেও আগের মতোই ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে গাজর। পাকা টমেটো বিক্রি হয়েছে ৬০-৮০ টাকা কেজি। আর নতুন আসা কাঁচা টমেটো বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে কাঁচা টমেটো আসতে শুরু করেছে। দেশি গাজরও কিছুদিনের মধ্যে বাজারে আসবে। সুতারং অন্যান্য সবজির মতো টমেটো ও গাজরের দামও শিগগিরই কমবে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস বলেন, এখন তো প্রায় সব ধরনের সবজি ২০-৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ফুলকপি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ টাকায়। তবে টমেটো ও গাজরের দাম এখনো বেশি, এটা ঠিক। আশার কথা হলো, বাজারে কাঁচা টমেটো আসতে শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যে দেশি গাজরও চলে আসবে। তখন টমেটো, গাজরসহ সব ধরনের সবজির দাম আরো কমবে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটোল ও বেগুন বিক্রি হয়েছে ২০-৩০ টাকা কেজিতে। এক সপ্তাহ আগে এ সবজি দুটি ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঢেঁড়স, করলা, ঝিঙা, ধুন্দলের দাম কমে ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাজারে সবজির পাশাপাশি এসেছে বিভিন্ন শীতকালীন শাকও। বাজারভেদে এক আঁটি পালনশাক বিক্রি হয়েছে ১০-২০ টাকায়। লালশাক বিক্রি হয়েছে ৫-১০ টাকা আটি। লাউশাক পাওয়া যাচ্ছে ২০-৩০ টাকায় এবং ১০-২০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে পুঁইশাকের আঁটি। সবজির পাশাপাশি কিছুটা দাম কমেছে কাঁচামরিচের। বাজার ও মানভেদে এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ১০-১৫ টাকায়। তবে কোথাও কোথাও ৩০ টাকা কেজিও বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ।

এ ছাড়া দাম স্থিতিশীলের তালিকায় রয়েছে পেঁয়াজ। গত সপ্তাহের দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। বাজারে কেজিপ্রতি ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সাহেদ মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে এক কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৪০-৪৫ টাকা। এখন এক কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকায়। গত এক মাসেই পেঁয়াজের দাম দুই দফায় কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা কমেছে। এ ছাড়াও দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বয়লার মুরগি, ডিম, গরু ও খাসির মাংস এবং মাছের। বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকায়। গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ এবং খাসির মাংস ৬৫০-৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর প্রতিটি মাছের বাজারেই ইলিশে ভরপুর। ৬০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়। আর পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকায়। আর ছোট আকারের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়।

গত সপ্তাহের মতোই বাজারভেদে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৪০০ টাকা কেজিতে। পাবদা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়, শিং মাছ ৩০০-৫০০, তেলাপিয়া ১২০-১৬০, পাঙ্গাস ১২০-১৫০ এবং পুঁটি মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকায়।

 

"