চট্টগ্রামের বাড়ইপাড়া-কর্ণফুলী খাল খনন

জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আশাবাদ

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নগরীর বহদ্দার হাট বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খননে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আলোচিত প্রকল্পটি ২০১৪ সালের ২৪ জুন একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ এবং অর্থ ছাড় না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। মেয়াদ চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার একনেক সভায় সংশোধিত হয়ে ১ হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে।

প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, নতুন খালটি নগরীর বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়ার চাক্তাই খাল থেকে শুরু করে শাহ আমানত রোড হয়ে নুর নগর হাউজিং সোসাইটির মাইজপাড়া দিয়ে পূর্ব বাকলিয়া হয়ে বলির হাটের পাশে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালটির দৈর্ঘ্য হবে আনুমানিক ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং প্রশস্ত ৬৫ফুট। খালটির মাটি উত্তোলন, সংস্কার ও নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টির লক্ষ্যে খালের উভয় পাশে ২০ফুট করে ২টি রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে,২০১৪ সালে একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৮১ হাজার টাকায় ২০১৫ সালে ১৩ আগষ্ট প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। ওই সময় প্রকল্পের সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০১৪ সালের ১জুলাই থেকে ২০১৭সালের ৩০জুন পর্যন্ত।

এদিকে ২০১৭ সালের জানুয়ারীতেও প্রকল্পটি সংশোধন করে মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছিল চসিক।ওই সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৬১৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা।কিন্তু পরবর্তীতে প্ল্যান কমিশনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটি পুনরায় সংশোধন করে ৩৭৬ কোটি ১৩ লাখ টাকায় মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়।পরে একই বছরের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় শর্ত দিয়ে প্রকল্প অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ১ হাজার ২২৪ কোটি ১১ লাখ টাকায় আরডিপিপি তৈরি করা হয়, যা ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল।

সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই প্রকল্পটির ওপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় একটি ‘পর্যলোচনা সভা’র আয়োজন করে। সভায় প্রকল্পটি ‘বাধা নেই’ মর্মে ঐক্যমতে পৌঁছান সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রকল্পের ডিপিপিতে বিদ্যমান প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঙ্গে আরো তিন শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়। ভবিষ্যতে ভূমির মূল্য বেড়ে গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে কোনো জটিলতা দেখা না দেয় তা মাথায় রেখেই এ ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। এর প্রেক্ষিতেই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

প্রকল্পটির বিষয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে নতুন খাল খনন হলে পানির ধারন ক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া শুরু থেকেই খালটি পরিচর্যা করা গেলে তার সুফল নগরবাসী পাবেন। খালটির দুই পাশে রাস্তাও নির্মাণ করা হবে। এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি হওয়ার ফলে জনগণের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে।

নির্দিষ্ট সময়েও প্রকল্পটির কাজ শুরু না হওয়ার কারণ হিসেবে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রকল্পের প্রধান অংশ ভূমি অধিগ্রহণ। এই অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে। ওই দিন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভূমি অধিগ্রহণের আনাপত্তি ছাড়পত্রের আবেদন করেছিল চসিক। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের কাছে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরুর জন্য চিঠি দিয়েছিল চসিক। এরপর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য পুরো টাকা দিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয় চসিককে। যাতে অধিগ্রহণ কার্যক্রম একসঙ্গে করা সম্ভব হয়। এখন ব্যয় বৃদ্ধি করে সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

"