এসএসসির ফরম পূরণ

সিলেটে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সিলেট প্রতিনিধি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে সিলেটে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের এক নির্দেশনায় অতিরিক্ত ফি আদায় না করার জন্য বলা হলেও সে নির্দেশনা মানছে না বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

সিলেট নগরের দি এইডেড হাইস্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, ৩ নভেম্বরের দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন স্কুল থেকে ৫ নভেম্বর ফরম পূরণের শেষ দিন বলে জানানো হয়। এ সময় সবাইকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন প্রধান শিক্ষক শমসের আলী। এতে বিপাকে পড়েন অনেক অভিভাবক। হুট করে এভাবে টাকার জোগাড় করা অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিভাবকদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ বিজ্ঞান বিভাগের জন্য মোট ৩ হাজার ৭০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। আর মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের জন্য ৩ হাজার ৬০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। এইডেড স্কুলের প্রধান শিক্ষক শমসের আলী বলেন, ফরম পূরণ বাবদ ১৮০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, অভিভাবকরা ঠিক কথা বলেননি। হয়তো কারো আগের বকেয়া ফি রয়েছে তা মিলিয়ে নেওয়া হতে পারে। অতিরিক্ত টাকা নিয়ে রশিদ না দেওয়ার ব্যাপারটি স্বীকার করে তিনি বলেন, স্কুল রেকর্ডে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। তাই কোনো রশিদ দেওয়া হচ্ছে না।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলছেন ভিন্ন কথা। বাণিজ্য বিভাগের এক ছাত্রের বাবা বলেন, আমার কাছ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা রাখা হয়েছে। কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি। আমরা রশিদ চাইলে দেওয়া যাবে না বলে জানান শিক্ষিকা ফাহমিদা। স্কুল রেকর্ডে আমার ছেলের আগের কোনো টাকা বকেয়া নেই। একই চিত্র দেখা যায় নগরের ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়, কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ব্লু-বার্ড হাই স্কুল, অগ্রগামী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে।

বিজ্ঞান শাখার ছাত্রদের জন্য ৩ হাজার ৪০৫ টাকা আর ছাত্রীদের জন্য ৩ হাজার ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মানবিক ও বাণিজ্যিক শাখার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যথাক্রমে ৩ হাজার ৩১৫ ও ৩ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে হাজী ইসরাব আলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, বোর্ড নির্ধারিত টাকার বাইরে বাড়তি যে টাকা নেওয়া হচ্ছে সেটা কোচিংয়ের জন্য। কোচিংয়ের টাকা আলাদাভাবে না নিয়ে একসঙ্গে নিচ্ছেন কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নোটিস বোর্ডে কোচিংয়ের টাকা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি সেটা ঠিক, তবে যারা কোচিং করবে তাদের রশিদে আলাদা করে টাকার হিসাব উল্লেখ করা থাকবে। অতিরিক্ত ফি আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট জেলা শিক্ষা অফিসার গোলজার আহমদ জানান, ফি নির্ধারণ করে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত আদায় না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে কিনা তা আমরা মনিটর করব।

"