আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস

পাঁচ কোটি বাতরোগীর চিকিৎসক ৫০ জন!

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

পাঠান সোহাগ

আর্থ্রাইটিস বা বাতরোগ মানুষের শরীরে হাড়ের দুই জয়েন্টের প্রদাহজনিত একটি রোগ। এটি সন্ধিবাত নামেও পরিচিত। দেশে শতাধিক ধরণের বাতরোগের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ বাতরোগে আক্রান্ত। অথচ এই রোগের চিকিৎসা সেবা অপ্রতুল। রোগটির চিকিৎসার জন্য পূণাঙ্গ কোনো সরকারী প্রতিষ্ঠান নেই। শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএএমএমইউ) একটি মাত্র বিভাগ রয়েছে। সেখানে স্বল্প পরিসরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে মাত্র ২৭ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ৫০ জন মেডিকেল অফিসার আছেন। আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশন ‘আটল্যান্টা’-এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মানুষের কর্মক্ষমহীনতার প্রথম এবং প্রধান কারণ হল বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস বা বাতরোগ।

রোগটির চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে বাতরোগ বা রিউমাটোলজি বিভাগ নেই। এ কারণে সাধারণের দোড়গোরায় মানসম্মত চিকিৎসা সেবা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে রিউমাটোলজি বিভাগ খোলা, পদ সৃষ্টি করে চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ানো দাবি জানান তারা। এ জন্য সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভাগটি খোলার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘ডোন্ট ডিলে কানেক্ট টুডে’ অর্থাৎ ‘বাত রোগে আক্রান্ত হলে আজই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে সারাবিশ্বের ন্যায় আজ বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস। এ বছর দিবসটি উপলক্ষ্যে জনসচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে বিএসএমএমইউ, বাংলাদেশ রিউম্যাটোলজি সোসাইটি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে র‌্যালী, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাত কোনো একক রোগ নয়; অনেকগুলো রোগের লক্ষণ। সাধারত দুই জয়েন্টের প্রদাহের রোগ। বাতরোগের লক্ষণ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউম্যাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শামীম আহমেদ বলেন, দেশে শতাধিক ধরনের বাত রোগের মধ্যে অস্টিওআর্থ্রাইটিস ভোগা রোগীর সংখ্যা বেশি। আর পুরুষের তুলনায় মহিলারা চারগুণ বেশি আক্রান্ত হয়। এরমধ্যে ইনফ্লামেটরি বা ওটোইম্যুন আর্থ্রাইটিসের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। এ রোগে রোগীর ৯০ শতাংশ রোগীর শরীরে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন ও জয়েন্টগুলো ফুলে শক্ত হয়ে যায়। রোগীর প্রাতঃকালীন জড়তা, চলাফেরায় জড়তা, মাংসপেশিতে ব্যাথা, জয়েন্টের ফ্লেক্সিবিলিটি কমে যায়। আর রিউমেটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে রোগীর দুই হাত বা পায়ে পাঁচ বা তার অধিক জয়েন্টকে আক্রান্ত করে থাকে। এছাড়া হাঁটু, কনুই, রিস্ট, সোল্ডার-জয়েন্ট বা সন্ধিতে মারাত্মক ব্যাথা তৈরি হয়। সময়মত চিকিৎসা না নিলে কয়েক মাস বা বছরের মধ্যে জয়েন্ট-ডিফরমিটি বা বিকৃতি হওয়ার আশংকা থাকে।

এছাড়া ৪৫ বছরের কম বয়সীদের স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস নামক রোগে মেরুদন্ডের জয়েন্টগুলো আক্রান্ত হয়। আর ৪৫ এর বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে জয়েন্টের ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে কার্টিলেজ ক্ষয় এবং জয়েন্টের দু’দিকে হাড়ের ঘর্ষণে ব্যথা হয়। পাশাপাশি জয়েন্টে ক্রমাগত আঘাত লাগা বা অপারেশন করা, জয়েন্ট ইনফেকশন হওয়া, বিভিন্ন জন্মগত ত্রুটি, রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণেও আর্থ্রাইটিস হয়ে থাকে।

চিকিৎসার বিষয়ে জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, রোগের লক্ষণ, রোগীর পারিবারিক ইতিহাস, প্রদাহের ধরন এবং শারীরিক পরীক্ষা যেমন; জয়েন্টের এক্সরে ও রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ সনাক্ত করা যায়। রিউম্যাটোলজিস্টদের পাশাপাশি মেডিসিন, চর্মরোগ ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা এ রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

অধ্যাপক ডা. মো. শামীম আহমেদ বলেন, বিএসএমএমইউএর রিউম্যাটোলজি বিভাগের বহিবিভাগে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের বাত ব্যাথায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। আন্তঃবিভাগে ২১ টি শয্যায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ বিভাগটিতে বর্তমানে ৩ জন অধ্যাপক এবং ২ জন করে সহযোগি ও সহকারী অধ্যাপকসহ মোট ৭ জন শিক্ষক আছেন। এছাড়া ২০ জন এমডি (মাস্টার্স অফ মেডিসিন) পাশ করে বের হয়েছেন এবং ৫ জন শিক্ষার্থী সদ্য স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করছেন।

 

"