জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শিফট পদ্ধতির প্রশ্নপত্রে বৈষম্যের অভিযোগ

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গতকাল বুধবার ‘জি’ ইউনিট ও ‘ই’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ¯œাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তবে ভর্তি পরীক্ষা শেষ হলেও শেষ হয়নি শিফট পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সমমান নিয়ে তর্ক-বিতর্ক। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও (২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শিফট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি ইউনিটের পরীক্ষা একটি শিফটে না নিয়ে কয়েকটি শিফটে নেয়া হচ্ছে। আর এই শিফট পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিফটগুলোর পৃথক প্রশ্নপত্রের কারণে ভর্তিচ্ছুরা ‘বৈষম্যের’ শিকার হয়েছেন। এমন অভিযোগ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের।

জানা যায়, এ বছর ‘এ’ ইউনিটের (গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষা ৮টি শিফটে, ‘এইচ’ ইউনিট (ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি, আইআইটি) ৩টি শিফটে, ‘ডি’ ইউনিট (জীববিজ্ঞান অনুষদ) ৯টি শিফটে, ‘আই’ ইউনিট (বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট) ১টি শিফটে, বি ইউনিট (সমাজবিজ্ঞান অনুষদ) ৫টি শিফটে, ‘সি’ ইউনিট (কলা ও মানবিকী অনুষদ : নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এবং চারুকলা বিভাগ ব্যতিত) ৬টি শিফটে, ‘সি ১’ ইউনিট (কলা ও মানবিকী অনুষদ : নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এবং চারুকলা বিভাগ) একটি শিফটে, ‘এফ’ ইউনিট (আইন অনুষদ) ৪টি শিফটে, ‘জি’ ইউনিট (ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইবিএ-জেইউ) ২টি শিফটে এবং ‘ই’ ইউনিটের (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ) পরীক্ষা ৩টি শিফটে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, একটি ইউনিটের একাধিক শিফট থাকায় একই মানের প্রশ্নপত্র তৈরি অসম্ভব। কারণ প্রতিটি শিফটের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র তৈরি হয়েছে। আর প্রশ্নপত্র ভিন্ন হওয়ায় কারো কাছে তুলনামূলক সহজ আবার কারো কাছে তুলনামূলক কঠিন প্রশ্ন পড়েছে। এ কারণে প্রতিটি শিফটের পরীক্ষায় প্রায় সমানসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নিলেও কোনো শিফটে পরীক্ষা দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান পাচ্ছেন আবার কোনো শিফট থেকে গুটি কয়েক শিক্ষার্থী চান্স পায়। এতে প্রকৃত মেধাবী মূল্যায়ন হচ্ছে না।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মহব্বত হোসাইন বলেন, একাধিক শিফটে পরীক্ষা নেয়ায় কখনোই একই মানের প্রশ্ন করা সম্ভব না। ফলে কোনো শিফটে তুলনামূলক কঠিন প্রশ্ন আবার কোনো শিফটে তুলনামূলক সহজ প্রশ্ন পড়ে। এতে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

এ বছর প্রকাশিত বিভিন্ন ইউনিটের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ‘এ’ ইউনিটের প্রথম দিনের ৫টি শিফট থেকে মেধা তালিকায় থেকে স্থান পেয়েছে ছাত্রী ১৩১৫ জন ও ছাত্র ১৬৪২ জন। দ্বিতীয় দিনের ৩টি শিফট থেকে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন ছাত্রী ৪৩৭ জন ও ছাত্র ৭৩০ জন। ডি ইউনিটের পরীক্ষা প্রথম দিনে ৫টি শিফটে ও দ্বিতীয় দিনে ৪টি শিফটে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিনে পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে ২৫৯৪ জন। আর দ্বিতীয় দিনের ৪টি শিফট থেকে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে মাত্র ৬৪৩ জন।

‘বি’ ইউনিটের শীর্ষ ৫০ জনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ইউনিটের শীর্ষ ৫০ ছাত্রের ২৬ জন এসেছেন ৪র্থ শিফট থেকে। বাকি ২৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন অন্য চারটি শিফট থেকে। এর মধ্যে দ্বিতীয় শিফট থেকে সবচেয়ে কম দুইজন মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। একইভাবে এই ইউনিটের শীর্ষ ৫০ ছাত্রীর ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ইউনিটের চতুর্থ শিফট থেকে সর্বোচ্চ ২২ জন ছাত্রী মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বাকি ২৮ জন স্থান পেয়েছেন অন্য চারটি শিফট থেকে। ছাত্রদের মতো দ্বিতীয় শিফট থেকে সবচেয়ে কম তিনজন ছাত্রী শীর্ষ ৫০ জনের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ভর্তিচ্ছুদের পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে প্রশ্ন আছে একাধিক শিফটে পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা কঠিন করে এই সমস্যার সমাধান করা যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. নুরুল আলম বলেন, ‘আমাদের এখানে অ্যাপ্লাই করে বেশি। এতজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা একবারে নেয়া সম্ভব না। আমাদের আশপাশে এত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়ার মতো পর্যাপ্ত স্কুল-কলেজও নেই। তবে আমরা ভেবে দেখব ভবিষ্যতে কী করা যায়।’

 

"