খুলনায় শিক্ষা অফিসে তদবিরকারীদের ভিড়

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

মো. শাহ আলম, খুলনা

কোনো শিক্ষক আসেন ছুটি নিয়ে আর কেউ আসেন ছুটি ছাড়াই। সবার মুখে একটাই কথা শিক্ষা অফিসে কাজ। এই কাজ না শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন তারা। অনেক সময় শিক্ষা কর্মকর্তারা দফতরে না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়েন তারা। আগতদের ভাষ্য অনুযায়ী শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকলে অপেক্ষা বেড়ে যায়। কর্মকর্তারা বলেন, স্কুল সময়ে শিক্ষা অফিসে আসা ঠিক নয়।

জানা গেছে, খুলনা জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে স্কুল সময়ে শিক্ষকের আনাগোনা হয়। এমনকি নির্বাচনী পরীক্ষার সময়ও এর কমতি নেই। নির্দিষ্ট নিয়ম ভেঙে উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলো অতিক্রম করে সরাসরি যোগাযোগ করেন জেলা শিক্ষা অফিসে। নিয়মানুযায়ী শিক্ষকরা তাদের চাকরি ও স্কুলসংক্রান্ত কাজ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠান। কিন্তু সেই নিয়ম ভেঙে উপজেলাগুলো থেকে সরাসরি শিক্ষকরা যোগাযোগ করছেন জেলা শিক্ষা অফিসে। শুধু জেলা শিক্ষা অফিসে নয় বিভাগীয় শিক্ষা অফিসেও এর কমতি নেই। মোট কথা তদবিরে কেটে যায় সময়। এছাড়া অফিসে শিক্ষা কর্মকর্তারা আগত শিক্ষকদের সঙ্গে আসার সঙ্গে সঙ্গে সময় দিতে না পারায় বাড়ে অপেক্ষা। কখনো কর্মকর্তাদের নানা প্রোগ্রামের কারণে বাইরে থাকায় শিক্ষকরা সকাল থেকে বিকেল অবধি অপেক্ষা করেন। এই সুযোগে কাজ করে দেওয়ার কথা বলে অফিসের অন্যরা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। সরেজমিন খুলনা জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে স্কুল সময়ে শিক্ষকদের আনাগোনা দেখা যায়। তাদের কেউ কেউ অনেক দূরবর্তী উপজেলা থেকেও আসেন। সেই পরীক্ষা রেখেও কোনো কোনো শিক্ষককে শিক্ষা অফিসে পাওয়া যায়। স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে কাজ থাকায় তিনি পরীক্ষা শুরু করে দিয়ে এই অফিসে এসেছেন। শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় তিনি তার জন্য অপেক্ষা করছেন।

সাতক্ষীরা জেলা থেকে শিক্ষকরা এসেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। তিনি ছুটি নিয়ে এসেছেন। আসার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদায়নের সময় জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ করেননি। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জানালে তিনি বিভাগীয় শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন। যার কারণে তাকে স্কুল থেকে ছুটি নিতে হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ পোদ্দার বলেন, স্কুল সময়ে ক্লাস রেখে শিক্ষা অফিসে আসা অন্যায়। এ সময়ে শিক্ষকরা এসে ঘোরাফেরা করার সময় সামনে পড়লে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। খুলনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার রুহুল আমিন বলেন, স্কুল সময়ে শিক্ষকদের শিক্ষা অফিসে আসার প্রয়োজন হয় না। দু-একজন শিক্ষক কাজে আসে।

"