‘বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা’ সেই নাসিম আবার মাঠে

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজেকে ‘বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা’ হিসেবে দাবিদার সেই কামরুল হাসান নাসিম আবার মাঠে নেমেছেন। সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকার পাঁচতারকা হোটেলে। নেতাকর্মী কেউ নেই, তিনি নিজেই সব। লিখিত বক্তব্যে সংবিধান, রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে সব বিষয়েই ‘গবেষণা’ আছে তার। সব মিলিয়ে তার চাওয়া, তিনি বিএনপিকে ‘পুনর্গঠন’ করে জিয়াউর রহমান ও মশিউর রহমানের জাদু মিয়ার ‘চুক্তি ও আদর্শ’ বাস্তবায়ন করবেন। গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকার হোটেল সোনাগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপি ভাঙা নয় ‘পুনর্গঠন’ করাই তার উদ্দেশ্য। এই কামরুল হাসানই এক সময় নিজেকে ‘আসল বিএনপি’র প্রধান বলে দাবি করে এসেছেন। এর আগে তিনি ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখল করতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন। যদিও সেবার দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পান।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে আট পাতার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কামরুল হাসান। শেষে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে কামরুল হাসান কিছুটা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, বিএনপি ভাঙা তার উদ্দেশ্য নয়। ‘পুনর্গঠন’ করা তার উদ্দেশ্য। তিনি চান বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন। খালেদা জিয়ার জায়গায় তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন এবং কারাবরণ করবেন। রাজনীতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব দেওয়ার ‘যোগ্যতা নেই’ বলে তিনি মনে করেন।

কামরুল হাসানের সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘বিএনপি পুনর্গঠন, সংবিধান, জাতীয়তা, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, জাতীয় নির্বাচন, শাসনরীতি ও জাতীয়তাবাদী শক্তির নতুন করে পথচলার একটি সম্ভাব্য প্লাটফর্ম সম্পর্কিত ইস্যু।’ এই লেখার নিচে আলোচক হিসেবে তার নাম লেখা ছিল।

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে কামরুল হাসান বলেন, জামায়াতে ইসলামকে ছাড়ুন। দল চলবে জিয়াউর রহমান ও মশিউর রহমান জাদু মিয়ার চুক্তির আলোকে ও আদর্শে অনুরণিত হয়ে। এ ছাড়া যদি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারেক রহমান দেশে না ফেরেন, তাহলে তার আসার কোনো প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দল নিয়ে তারেক রহমানের না ভাবলেও চলবে।

সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে কামরুল হাসান বলেন, ‘নির্বাচন প্রতিহত করার প্রয়োজন নেই। দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে শপথবাক্য এই দেশে কাউকে পড়তে দেওয়া হবে না। দেওয়া হবে না। দেওয়া হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ৩০০ সংসদীয় আসনের প্রায় ৩২০ জনের মতো নেতা নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত। তারা কার্যকরী সংসদে যেতে চান। তারা মনে করেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তারাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ফেভারিট দল। গণতান্ত্রিক উপায়ে ধানের শীষ নিয়ে ওই ৩২০ জনের মধ্যে ৩০০ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে কামরুল হাসান বলেন, ‘ব্যক্তিবিশেষ বাদ দিলে প্রায় সবাই আপনার দেওয়া নানা অর্থনৈতিক উদ্যোগের উন্নয়ন ইস্যু নিয়ে মেতে থাকার অর্থ এই নয় যে, তারা জনগণের জন্য আলাদা করে ভেবেছেন। তারা ওইসব প্রকল্প নিয়ে কাজ করে ভাগবাটোয়ারার ব্যবসায়ী বনেছেন। আমাদের সঙ্গে নির্বাচনের লড়াই করতে হলে দলীয় মনোনয়নে সতর্ক থাকবেন। আমরা ভোটযুদ্ধে শক্ত প্রতিপক্ষ চাই।’

এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবি জানান কামরুল হাসান। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, পত্রিকার সম্পাদক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ মোট ৩১ জনের নাম উল্লেখ করেন তিনি। এসব ব্যক্তির কেন বিবেচনা করা হয়েছে, নামের পাশে বন্ধনী দিয়ে কারণও লিখে দিয়েছেন তিনি।

"