নতুন সাজে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অতিথিদের রুম, হোটেলের ছাদে সুইমিংপুল, মিটিং রুম, বলরুম, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করতে বিপুল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। ৬০ বছরের পুরনো ভবনটি সংস্কারের মাধ্যমে নতুন আঙ্গিকে আসছে। এই সংস্কার কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা। পর্যটন ও আতিথেয়তা সেবা খাতে নতুন আঙ্গিকে আসতেই এই বিপুল অর্থ ব্যয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রূপসী বাংলা হোটেলে ছোট-বড় মিলিয়ে কক্ষ ছিল ২৭২টি। সংস্কারের পর এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৩১টি। আগে রাজকীয় প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট ৬টি থাকলেও এখন করা হয়েছে ৫টি। পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্যুট রুম ছাড়াও ডিলাক্স রুমগুলোর আয়তন আগের চেয়ে বেড়েছে। আয়তনের দিক থেকে কক্ষের আকার ২৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ বর্গমিটার। বিশ্বমানের অতিথিসেবা নিশ্চিত করতে পরিবর্তন করা হয়েছে সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের স্থান। এর আগে হোটেলটির বলরুম ছিল একদিকে, উইন্টার গার্ডেন নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান ছিল আরেকদিকে। এখন দুটি একত্র করে দেওয়া হয়েছে। হোটেলটির মূল ফটকও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেতরের সুইমিং পুলও স্থানান্তর করে সাজানো হয়েছে নতুনভাবে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। নতুন টাইলস, আধুনিক স্যানিটারি উপকরণসহ প্রতিটি রুমের বাথরুমে থাকছে নতুন বাথটাব। রুমভেদে ৩২ ইঞ্চি থেকে শুরু করে ৪৮ ইঞ্চি টিভি রাখা হয়েছে। বাইরের ফুলগাছ থেকে শুরু করে ভেতরের আসবাবে রয়েছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। নতুন অবকাঠামোতে সুইমিংপুল নিয়ে যাওয়া হয়েছে হোটেলের ছাদে। এটি এখন হয়ে উঠেছে বিশালাকারের ‘ইনফিনিটি সুইমিং পুল’। থাকছে অত্যাধুনিক স্পা, জাকুজ্জি ও পুলসাইড বার।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাঁচতারকা হোটেলে যেসব সুবিধা রয়েছে, সবই থাকবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায়। এর মধ্যে রয়েছে প্রশস্ত লবি, মিনি বার, ইন-রুম চা-কফির সেবা, জামাকাপড় ইস্ত্রির সুবিধা, জাতীয় দৈনিক, ইলেক্ট্রনিক নিরাপত্তা, উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ, এক্সপ্রেস চেক-ইন, বিজনেস সেন্টার, ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট, এক্সিকিউটিভ ক্লাব লাউঞ্জ, ব্যবসা কেন্দ্র, মিটিং কক্ষ, উপহারের দোকান, গাড়ি ভাড়া, লিমুজিন ও এয়ারপোর্ট শাটল সার্ভিস, ফিটনেস সেন্টার, বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের দিকনির্দেশনা সংবলিত গাইড বই। উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ ডিজিটাল সব প্রযুক্তি ও সেবার ছোঁয়া থাকবে এই হোটেলে।

১৯৬৬ সালে শাহবাগে প্রায় সাড়ে চার একর জমির ওপর যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম পাঁচতারকা হোটেল ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’। স্থপতি উইলিয়াম বি ট্যাবলারের চমৎকার নকশায় সাজানো হোটেলটি এখনো ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমাহারে সাজানো চমৎকার স্থাপত্যশিল্পের নিদর্শন।

১৯৮৩ সাল পর্যন্ত হোটেলটির নাম ছিল ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল’। এরপর স্টারউড কোম্পানির সঙ্গে সরকারের চুক্তি হওয়ায় ১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘ঢাকা শেরাটন হোটেল’ নামে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে। শেরাটনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে এটি পরিচালিত হয়।

২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের (আইএইজি) সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি করে হোটেলটির মালিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড (বিএসএল)। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে এর সংস্কার কাজ শুরু হয়।

প্রায় তিন দশক পর আবার এর ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল। তাই নাম বদলেছে। ১৯৮৩ সালের পর আবারও ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ নামে চালু হলো পাঁচতারকা হোটেলটি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষে শিগগিরই বাণিজ্যিকভাবে খুলে দেওয়া হবে এ হোটেল।

"