সাঈদ খোকন বললেন

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা দুই বছরের মধ্যে

প্রকাশ | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসতে এবং যানজট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে ২ বছর লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন এই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। গতকাল সোমবার ঢাকা দক্ষিণের নগর ভবনে আয়োজিত সভায় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা মহানগরীতে পরিবহন শৃঙ্খলা আনতে আমাকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্য একটি কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ কমিটি চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে প্রথম বৈঠকে মিলিত হবে। ওই বৈঠকে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নেওয়া পরিকল্পনাগুলো যাচাই-বাছাই করে সংযোজন-বিয়োজন করা হবে। নতুন করে আরো কি করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা হবে।

ঢাকা মহানগরে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা এবং যানজট নিরসনে বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তনের কার্যক্রম সমন্বয় করতে গত রোববার সাঈদ খোকনকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রকে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক। এ ছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ এস এম সালেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতিকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

সভায় সাঈদ খোকন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করব। দ্রুততম সময়ের মধ্যে রুট রেশনালাইজেশন এবং কোম্পানি গঠন কাজ শেষ করা হবে। পুরনো বাস তুলে দিয়ে নতুন বাস নামাব। আমাদের লক্ষ্য যানজটমুক্ত শহর উপহার দেওয়া।

মেয়র বলেন, ৪ হাজার ৫০০ গণপরিবহন একদিনে নামানো সম্ভব নয়। এক কোম্পানির পক্ষে এটা কিনে আনাও সম্ভব নয়। এজন্য কিছুটা সময় দরকার হবে। তবে রাজধানীর সড়ক নিরাপদ, যানজট নিরসন করতে এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নাগরিক অসচেতনতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সাঈদ খোকন।

রাজধানীর নাগরিক সেবা সংস্থার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেয়র সাঈদ খোকন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ওই কমিটির বিষয়ে তদারকি করা হয়। তবুও সমন্বয়হীনতার কথা বার বার বলেছেন মেয়র। ওই কমিটির মতো নতুন সমন্বয় কমিটির অবস্থা একই হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমন্বয় কমিটির অভিজ্ঞতা ভালো নয়। তবুও আমরা থেমে নেই। যাত্রাপথে সংকট থাকতে পারে, তার জন্য থেমে থাকব না।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, সচিব শাহাবুদ্দিন খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. জাহিদ হোসেন ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাহ্উদ্দিন।

গতকালের প্রজ্ঞাপনে কমিটির ৬টি কার্যপরিধি ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো ১. ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তনের বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মরহুম মেয়র আনিসুল হকের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সমন্বয় করা, ২. সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তন করা, ৩. বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তনের রোড ম্যাপসহ সময়াবদ্ধ কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করা, ৪. বর্ণিত বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য কার্যক্রম শেষ করা, ৫. কমিটির কার্যক্রমে অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে নিয়মিতভাবে অবহিত করা। এ ছাড়া প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনে যে কাউকে কোঅপারেট করতে পারবে বলে জানানো হয়।

 

"