দেড় যুগেও ঠিক হয়নি কর্ণফুলী থানার সীমানা

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

পটিয়া-কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা গঠনের পর পাঁচ ইউনিয়নের সব ওয়ার্ড কর্ণফুলী থানায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রজ্ঞাপন জারি হলেও গত ১৮ বছরেও তা হয়নি। শিকলবাহা ও বড়উঠান ইউনিয়নের ১১ ওয়ার্ড এখনো পটিয়া থানার অধীনেই রয়েছে। এতে পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে সেবা নিতে গিয়ে কর্ণফুলী উপজেলার বাসিন্দারা জটিলতায় পড়ছেন।

২০০০ সালের ২৭ মে বন্দর ও পটিয়া থানা ভেঙে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অধীনে কর্ণফুলী থানা গঠন করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৯ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২ তম সভায় পটিয়া উপজেলাধীন চরলক্ষ্যা, চরপাথরঘাটা, শিকলবাহা, জুলধা ও বড় উঠান ইউনিয়ন সমন্বয়ে কর্ণফুলী থানাকে উপজেলায় উন্নীতকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘সর্বশেষ কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ গঠনের প্রজ্ঞাপনেও বলা আছে, কর্ণফুলী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের সব ওয়ার্ডই কর্ণফুলী থানার আওতাধীন হবে। কিন্তু এখনো ১১টি ওয়ার্ড কর্ণফুলী থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। এ কারণে ওই ১১ ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ উপজেলাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে কর্ণফুলী থানা ও নতুন উপজেলা গঠিত হলেও শিকলবাহা ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ড এবং বড়উঠান ইউনিয়নের পাঁচটি ওয়ার্ড এখনো কর্ণফুলী থানার অধীনে আসেনি। এ কারণে বড়উঠান ও শিকলবাহা এই দুই ইউনিয়নের মানুষকে আইনশৃঙ্খলার প্রয়োজনে ছুটতে হচ্ছে দুই থানায়। কেউ যাচ্ছে পটিয়া থানায়, কেউ যাচ্ছে কর্ণফুলী থানায়। আবার অনেকেই নিজেদের থানা সঠিকভাবে না চেনায় পটিয়া ও কর্ণফুলী থানায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

অভিযোগ আছে, সীমানা জটিলতার সুযোগে এক থানার পুলিশ অপরাধ সংগঠনের স্থানটি সংশ্লিষ্ট থানায় নয়, অন্য থানায় উল্লেখ করে বাসিন্দাদের হয়রানি করে আসছে। একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, প্রতি বছর হজযাত্রীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সিøপ কারো আসে কর্ণফুলী থানায়, আবার কারও সিøপ চলে যায় পটিয়ায়। ফলে হজযাত্রীদের ঘুরপাক খেতে হয়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের কাজ সময় মতো না হওয়ায় অনেক হজযাত্রীকে ফ্লাইট পেছাতে হয়েছে এমন ঘটনা অহরহ আছে।

সীমানা জটিলতায় ‘হয়রানির’ শিকার খোদ কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিজেন ব্যানার্জীও। রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান পন্ড করে দেওয়ার ঘটনায় একজন ইউপি চেয়ারম্যান ও তার পাঁচ শতাধিক সহযোগীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ কর্ণফুলী থানায় পাঠান ইউএনও। কিন্তু কর্ণফুলী থানা পুলিশ এই অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে দুই দিন থানায় ফেলে রাখে। দুই দিন পর ২০ ডিসেম্বর অভিযোগটি ইউএনও পাঠান পটিয়া থানায়। তখন মামলাটি পটিয়ায় রেকর্ড হয়।

কর্ণফুলী উপজেলা ও থানার আয়তন একই করার মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় সাংসদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী নানা দৌড়ঝাঁপ করে আসছেন।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর কর্ণফুলী থানার সীমানা ঠিক করতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে আধা সরকারি পত্র (ডিও) দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ২৩ নভেম্বর জেলা পুলিশ সুপার ও নগর পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বলেন, কর্ণফুলী উপজেলা ও থানার আয়তন একই হলে এসব সমস্যা থাকবে না। আমরা দাফতরিক কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছি। সীমানা-সংক্রান্ত বিরোধ এড়ানোর জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শিগগিরই ওই ১১টি ওয়ার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশকে (সিএমপি) হস্তান্তর করা হবে।

"