ধরপাকড়ের পরও খুলনায় থামছে না ট্রাক-ট্রলি

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মো. শাহ আলম, খুলনা ব্যুরো
ama ami

লক্কড়-ঝক্কড় পরিবহনের নাম ‘ট্রলি’। সড়কে কোনো ধরনের হর্ন ছাড়াই দেদার চলাচল করে এই যানবাহন। আর ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান তো রয়েছেই। প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক দিনের বেলা চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও প্রশাসনের ধরপাকড়েও তা থামছে না। আইনের প্রয়োগ থাকলেও সচেতনতার অভাবে এমনটা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, খুলনায় প্রশাসনের একাধিক সভায় মহানগরীর সড়কে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মহানগরীর সড়কে কোনো ধরনের ট্রাক, ট্রলি, লরি ও কাভার্ড ভ্যানসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের ব্যাপক ধরপাকড় হয়েছে। এখনো অব্যাহত রয়েছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে এ অভিযান। কিন্তু তারপরও থামছে দিনের বেলায় ট্রাক, ট্রলি, লরি ও কাভার্ড ভ্যানের দৌরাত্ম্য। তারা যেন কোনোভাবেই মানছে না প্রশাসনের এ নির্দেশনা। এদিকে, নগরীতে দিনের বেলায় এর চলাচল কিছুটা কম থাকলেও বিকেল থেকে সন্ধ্যা গড়াতেই এর মাত্রা বাড়ে।

খুলনার বিভিন্ন বাজার নেতৃবৃন্দ, বড় বড় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অসহযোগিতার কারণেও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন থেকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, চেম্বার সভাপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হচ্ছে। তাতে নগরীতে ট্রাক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ভেদে শিথিল করার আবেদন জানানো হচ্ছে। যার ফলে কেএমপি কমিশনারও বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সম্প্রতি বড় বাজারের একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও এ ধরনের একটি স্মারকলিপি গ্রহণে বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়েন। তিনি ওই ব্যবসায়ীদেরকে স্পষ্টভাবে জানান, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে কোনো ধরনের ট্রাক প্রবেশ করতে পারবে না। তারপরও ওই ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ‘নাছোড় বান্দার’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এক পর্যায়ে কেএমপি কমিশনার স্মারকলিপিটি অফিসে জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তাদেরকে বিদায় করেন।

এদিকে, ট্রাফিক কনস্টেবলদের সামনে দিয়ে এসব গাড়ি হরহামেশা চললেও তাদের যেন দেখা ছাড়া কোনো কাজ নেই। আবার অনেক গাড়ি ধরে তাদের বুঝিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সরেজমিন নগরীর পিটিআই মোড়, কবরখানা মোড়, মৌলভীপাড়া মোড়, রয়্যাল মোড়, ময়লাপোতা মোড়, গল্লামারী মোড়, শান্তিধাম মোড়সহ অন্যান্য মোড় ঘুরে দিনের বেলা সড়কে ট্রাক, ট্রলি ও অন্যান্য নিষিদ্ধ যানবাহন চলতে দেখা যায়। দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল কোথাও তৎপর আর কোথাও শুধুই দেখভাল।

নগরীর ময়লাপোতা এলাকার বাসিন্দা আতাহার আলী বলেন, ট্রাফিক সপ্তাহের সময় একটু ট্রাক-ট্রলি কম ছিল। এরপর তীব্রতা আবারও বেড়েছে। ট্রাফিক একটা ধরলে তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে পাশ দিয়ে আরেকটা চলে যায়। তার আর কিছুই হয় না।

নগরীর রূপসা স্ট্যান্ড রোডের এক ট্রলি চালক আবদুল কাদের বলেন, ট্রাফিক কনস্টেবলরা মাঝে মাঝে ধরে। কিন্তু কপালে থাকলে মামলা বাদ যায় না। মামলা পেতেও কপাল লাগে। অনেক গাড়ি চলে কিন্তু একজনকে মামলা দিতে দিতে আরেকটা চলে যায় কিন্তু তার আর কিছুই হয় না।

ট্রাফিক কনস্টেবল রাখাল দাস বলেন, দুই-একটা গাড়ি ধরে তাদের বুঝিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর সার্জেন্টের দায়িত্ব অনেক জায়গায় থাকে তাই তাকে সবকিছু বলা যায় না। সহকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট শাহিন রহমান বলেন, একটা গাড়ি ধরে আরেকটা ধরতে ধরতে চলে যায়। কিন্তু সিগন্যাল না মেনে চলে গেলে তাকে ঝুঁকি নিয়ে ধরার দরকার নেই।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেলের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন বলেন, তাদের চোখের সামনে পড়লে তাদেরকে ছাড় দেওয়া হয় না। আর কোনো কোনো গাড়ি চোখের অগোচরে চলে যায়। সচেতনতার অভাবে ও মামলা থাকার কারণে তারা আবারও সড়কে গাড়ি চালায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। খুলনা জেলাপ্রশাসক মো. হেলাল হোসেন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সচেতনতার অভাবে তারা তারা নির্দেশনার পরেও এ ধরনের কার্যক্রম করেন। তাদেরকে একবার, দুইবার মামলার পরে তৃতীয়বার মামলার মাধ্যমে জেলে পাঠানো হবে।

"