রাজশাহীতে জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রাজশাহী ব্যুরো

শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী রাজশাহীতে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে রাজশাহী নগরীতে এই শোভাযাত্রা বের হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোভাযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঢল নামে। শোভাযাত্রাটি সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট ও কুমারপাড়া হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

শোভাযাত্রায় রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আমীর জাফর, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অনীল কুমার সরকার, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক বিমল কুমার সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পারিষদের সাধারণ সম্পাদ শ্যামল কুমার ঘোষ, মহানগর জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আলোক কুমার দাস প্রমুখ অংশ নেন।

এছাড়া শোভাযাত্রায় মহানগর জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের অন্য নেতাসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশুরা অংশ নেয়। বিশাল এ শোভাযাত্রা শেষে মঙ্গল আরতির আলোকচ্ছটা, পদাবলী কীর্তনের সুর, আর আনন্দ শোভাযাত্রায় কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম সংকীর্তনে মেতে ওঠেন কৃষ্ণ ভক্তরা। দুঃখ-জরা-ব্যাধি থেকে মুক্ত হোক জীবন, শুদ্ধ হোক অন্তরাত্মা, অপার্থিব আনন্দলোকের মঙ্গলধ্বনিতে স্নাত হোক পৃথিবী- এমনটাই প্রার্থনা করেন ভক্তকুল।

শোভাযাত্রর পূর্বে নগরীর সাহেববাজার হুনুমানজিউর আখড়ায় এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িক কোনো শক্তির স্থান হবে না। কেননা, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। সব ধর্মের মানুষ এখানে শান্তি আর সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। যারা মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের প্রতিহত করা হবে। কারণ, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেই এ দেশ অর্জিত হয়েছে। এ দেশ সবার, সব মানুষের।

এদিকে, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপনের লক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মহানগর এলাকায় পূজা-অর্চনাসহ বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে- কৃষ্ণপূজা ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, স্লাইড শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুইজ, ভজন এবং গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা।

"