অবশেষে ট্রাকমুক্ত তেজগাঁও সড়ক

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের খালি করা রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডটি দুই-তিন মাস ধরে দখল হয়ে ছিল। গত শনিবার রাতেও সড়কের দুই পাশে অসংখ্য ট্রাক দাঁড়িয়ে যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও যানজট সৃষ্টি করে। কিন্তু গতকাল রোববার প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা দেখেন সড়কের দুই দিকই ফাঁকা। নেই কোনো ট্রাক।

প্যানেল মেয়র পৌঁছানোর আগে তেজগাঁওয়ের সড়ক থেকে মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও পুলিশ সদস্যরা ট্রাক সরিয়ে নেন। বেলা সাড়ে ১১টায় এসে সড়ক পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের কার্যালয়ে ট্রাক মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্যানেল মেয়র ও উত্তর সিটি কপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে ডিএনসিসির সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়–য়া বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যার পর আমি এই রাস্তা দিয়ে গিয়েছি। যাওয়ার সময় আমি দুই পাশে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। এই রাস্তা সবার, এই রাস্তা জনগণের। সড়ককে দখলমুক্ত করতে সবাইকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। আসুন আমরা সবাই হাতে হাত রেখে প্রতিশ্রুতি করি যে, আমরা এই আনিসুল হক স্মরণি (প্রস্তাবিত) পরিষ্কার রাখব।

এ সময় বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ মনির বলেন, পত্র-পত্রিকায় যেভাবে দখলের কথা লেখে সেগুলো ঠিক না। আমরা কোনো অবস্থাতেই প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্বপ্নের এই সড়ক দখল হতে দেব না। তবে ঈদসহ নানা আন্দোলন হরতালের সময় টার্মিনালে গাড়ি বেশি হয়ে যায়, তখন অনেক সময় সড়কে থাকে। সে সময় আমরা মাইকিং করে ট্রাক সরিয়ে দিতে বলি। এ ছাড়াও অনেক বাইরের ট্রাক কারওয়ানবাজারে মালামাল নিয়ে আসে, তারা না জেনেই সড়কে ট্রাক রাখে। সভায় ট্রাক কভার্ড ভ্যান ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মকবুল আহমেদ বলেন, সড়কে ট্রাক রাখার জন্য যানজট সৃষ্টি হচ্ছেÑ এ কথাটি ঠিক নয়। স্ট্যান্ডের সামনে কারওয়ান বাজার রেলক্রসিং থাকায় ৫ মিনিট পর পর রেল আসে-যায়। রেলের কারণে জ্যাম সাতরাস্তা পর্যন্ত চলে যায়। এ সময় ট্রাক-মালিক ও শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, গণমাধ্যমে ট্রাকস্ট্যান্ড সড়ক দখলের যে ছবি ছাপানো হয় সেগুলো পুরনো।

সভা শেষে প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, আমি সড়ক দখল করে কোনো ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখিনি। ঈদের সময় কিছু অনিয়ম হয়েছে। তবে মালিক-শ্রমিকরা বলেছেন তারা সড়কে আর ট্রাক রাখবেন না। তেজগাঁওয়ের এই সড়কটি নজরদারি করতে ডিএনসিসি সচিব ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু তেজগাঁও নয়, ঢাকার সব টার্মিনাল সংলগ্ন সড়ক চলাচলের উপযোগী করা হবে।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তালুকদার মোহাম্মদ মনির বলেন, আমরা সড়কে কোনো ট্রাক দাঁড়াতে দেব না। যদি কোনো ট্রাক সড়ক দখল করে তবে তার কাগজপত্র জব্দ করে রেকারিং করানো হবে।

এর আগে ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালটি দখলমুক্ত করার অভিযানে যান তৎকালীন ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হক। সে সময় তার ওপর হামলা চালায় শ্রমিকদের একটি গ্রুপ। শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহতের গুজবে গাড়ি ভাঙচুর, সড়কে অগ্নিসংযোগসহ শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে আনিসুল হককে ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তবে পরদিন মেয়রের নির্দেশে পুলিশের তৎপরতায় খালি হয় ট্রাকস্ট্যান্ড। প্রায় কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকা সড়কটি ফিরে পায় নতুন রূপ। তবে আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে আবারও দখল হতে থাকে সড়কটি।

"