চট্টগ্রামে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নিবন্ধন ও অনুমোদন যাচাইয়ের পাশাপাশি সেবার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বিশেষ অভিযানে নেমেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানার জামালখান সড়কের চিটাগং বেলভিউ লিমিটেডে, ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অ্যাপেলো? ইনফরমেশন সেন্টার ও সেনসিভ প্রাইভেট লিমিটেড এবং পাঁচলাইশ থানাধীন শেভরন ও ফর্টিস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুল্লাহিল আজম, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী ও ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মালিককে খুঁজে পাননি ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী বলেন, অভিযান পরিচালনার সময় ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পালিয়ে যান। এমনকি তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান চালানো হয়। আপাতত ইউনিক ডায়?াগনস্টিক সেন্টার তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মালিক এসে কাগজপত্র দেখাতে পারলে খুলে দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পাশের সেনসিভ প্রাইভেট লিমিটেডে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ কয়েকটি অনুমোদন থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বিএমডিসির অনুমোদন দেখাতে পারেননি। সেনসিভের কর্মকর্তারা বিএমডিসির অনুমোদনের কপি মালিকের কাছে আছে জানালে ম্যাজিস্ট্রেট মোরাদ আলী তাদের বিএমডিসির অনুমোদন দেখানোর জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় দেন।

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ তাদের প্রতিষ্ঠানে বিদেশ থেকে ডা. অরুনোভা রয়, ডা. নেহা চৌধুরী ও ডা. আভি কুমার রয় আসেন তাদের অনুমোদন আছে কিনা সেটি তারা দেখাতে পারেননি। তাই অনুমোদন দেখানোর জন্য আমরা সেনসিভ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছি।’

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘শেভরন ও ফর্টিস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। আমরা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নিবন্ধন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন, বিএমডিসির অনুমোদন, বিদেশি চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুমতির কাগজ চেয়েছি। কারণ বিদেশ থেকে যেসব ডাক্তার দেশে এসে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তাদের যোগ্যতা এবং তারা কোন ধরনের ডাক্তার, সেটা দেখা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়েছি। সময় স্বল্পতার কারণে অন্যগুলোতে যাওয়া হয়নি। পর্যায়ক্রমে সবকটিতে অভিযান চালাব। প্রথমে দিনে অভিযান পরিচালনার খবরে একটু নাড়া পড়েছে। আগামী সপ্তাহে আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

অভিযানের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. সাইফুল্লাহিল আজম বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালনা করা হবে। অভিযানে সাধারণত আমরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন, বিএমডিসির অনুমোদন, বিদেশি ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতির কাগজপত্র দেখছি। পাঁচটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে তিনটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলেও একটি প্রতিষ্ঠানে কাগজ দেখার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে এবং বাকী একটিকে সিলগালা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

"