আনিসুলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেলেন সাঈদ খোকন

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছেন দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।

গতকাল সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মরহুম মেয়র আনিসুল হক যে উদ্যোগটি নিয়েছিলেন, মালিকদের সঙ্গে যৌথভাবে এবং অনেকগুলো বৈঠকও তিনি করে গেছেন। তার মৃত্যুতে এই বিষয়টি আর এগোতে পারেনি। আমরা এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনকে দায়িত্ব দিলাম। তার নেতৃত্বে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনিসুল হক যে পথ দেখিয়ে গেছেন মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে, এতে উত্তর সিটিরও প্রতিনিধি থাকবেন। নতুন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন সাঈদ খোকন।’

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ঢাকা শহরে এক কোম্পানির অধীনে বাস চালু করার উদ্যোগের পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ইউলুপ নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। কিন্তু তার মৃত্যুতে সেসব উদ্যোগ প্রায় থেমে যায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের উপস্থিতিতে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এ দায়িত্ব দেন তাকেই। রাজধানীতে বেশির ভাগ গণপরিবহনে ভাড়ার বিনিময়ে টিকিট দেওয়া হয়, সেই ব্যবস্থায় যাওয়া যাবে নাÑপ্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, মেয়র সাঈদকে প্রধান করে যে কমিটি করেছি, সেই কমিটি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে। আমরা সেই অনুযায়ী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যাব। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সিটিং সার্ভিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান কাদের।

সভায় নৌপরিবহন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এবং এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙা, আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, শ্রমসচিব এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আনিসুল হক রাজধানীতে এক যুগান্তকারী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কয়েকটি নির্ধারিত কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে রাজধানীতে নামাতে চেয়েছিলেন ৪ হাজার বাস। সার্বক্ষণিক এ বাস সার্ভিসের মাধ্যমে নাগরিকরা নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারতেন। আবদুল্লাহপুর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ‘গ্রিন ঢাকা’ নামের একটি এসি বাস সার্ভিস চালু করেন তিনি। এ রকম ঢাকার অভ্যন্তরে আরো কয়েকটি বাস সার্ভিস চালুর স্বপ্ন ছিল তার। এর মাধ্যম্যে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সুলভ ও সাশ্রয়ী মূল্য করে নিরাপদে নাগরিকদের যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তিনি।

নগরীর অভ্যন্তরে অবস্থিত সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, গাবতলীর মতো বড় বড় বাস টার্মিনালগুলো নগরীর বাইরে স্থাপনের পরিকল্পনাও করেছিলেন আনিসুল হক। যাতে নাগরিকরা যানজটের যন্ত্রণা থেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে পারেন। এমনকি রাজধানীর সবচেয়ে বড় কারওয়ানবাজার কাঁচাবাজারও স্থানান্তর করে নগরীর বাইরে স্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেসব পরিকল্পনার একটিতে হাতও দিতে পারেননি তিনি। একটি স্বাস্থ্যকর নগরী গড়ার পরিকল্পনা হিসেবে সাধারণ যান চলাচলের পাশাপাশি অযান্ত্রিক সাইকেল চলাচলের জন্য আলাদা লেনের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন আনিসুল। নগরীর তরুণদের নিয়ে সাইকেল র‌্যালি করে উৎসাহ জুগিয়েছেন নগরবাসীকে।

মানুষ যেন রাজধানীর ঢাকার উন্মুক্ত খোলা আকাশ দেখতে পারে, আর নগরীর শিশুরা যেন মাটি ও আকাশের সঙ্গে গড়ে তুলতে পারে নিবিড় সম্পর্ক সেজন্য ডিএনসিসি এলাকা থেকে ২২ হাজার বিলবোর্ড অপসারণ করেছিলেন মেয়র আনিসুল। প্রিয় নগরকে সবুজ নগরে পরিণত করতে তিনি সবুজ ঢাকা কর্মসূচি নিয়েছিলেন। সরকারি-বেসরকারি ভবন ও বাড়ির ছাদ, কার্নিশে ব্যাপকভাবে বাগান সৃষ্টি করে সবুজায়নের কর্মসূচি নিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, রাজধানীর ফুট ওভারব্রিজগুলোও সাজিয়ে তুলেছিলেন সবুজের বাগান সৃজন করে। তারই পরিকল্পনা ও উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয় আধুনিক গণশৌচাগার।

"