২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

পশু কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী থেকে বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। গতকাল রোববার রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। কোরবানির ঈদের বর্জ্য অপসারণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এবারো ঈদের দিন বিকাল ৪টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কথা জানিয়েছে চসিক। নিজস্ব প্রতিবেদক ও চট্টগ্রাম ব্যুরোর পাঠানো খবর।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, সিটি করপোরেশনের জন্য এটি একটি ‘চ্যালেঞ্জ’। আমরা গত তিন বছর কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করেছি। আপনাদের সহায়তায় এবারও আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করতে পারব। এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পশু জবাইয়ের জন্য ৬০২টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র খোকন।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে অনুরোধ, নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করুন। তাহলে বর্জ্য অপসারণ করা সহজ হবে। বাংলাদেশের মুসলমানরা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদ্যাপন করবেন আগামী ২২ আগস্ট। এই ধর্মীয় উৎসবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ঈদের নামাজ পড়ে পশু কোরবানি দেওয়া হয়।

প্রতি বছর কোরবানির সময় রাজধানীর অলিগলিতে যত্রতত্র পশু জবাই করায় রক্ত ও পশু বর্জ্য ছড়িয়ে থাকে পুরো শহরে। সেই বর্জ্য পরিষ্কার করাও সিটি করপোরেশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সরকার কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়া করার জন্য স্থান নির্ধারণ করে দিয়ে এলেও সেখানে যাওয়ার আগ্রহ তেমন দেখা যায় না।

অবশ্য সরকার নির্দিষ্ট জায়গায় পশু জবাইয়ের বিষয়টিকে বাধ্যবাধকতার মধ্যে না এনে নগরবাসীর সুবিবেচনার ওপরই ছেড়ে দিয়েছে। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কোরবানির ঈদে রাজধানীতে মোট ২২ হাজার টন পশুর বর্জ্য জমেছিল। আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৯০ শতাংশ বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল করপোরেশনের পক্ষ থেকে।

মেয়র জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ডিএসসিসির ৫ হাজার ২০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবার মাঠে থাকবেন। গতবারের মতো এবারও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় দুই লাখ ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে এসব ব্যাগ পৌঁছে দেওয়া হবে। কেউ না পেলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে বা আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে যোগাযোগ করবেন।’

ঈদের দিন দুপুর ২টায় মেয়র পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এরপর থেকে শুরু হবে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের কাজ। বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি পানি ছিটিয়ে রক্ত ধুয়ে দেওয়া হবে।

বৃষ্টির পানি জমে থাকে এমন জায়গায় পশু জবাই না করার পরামর্শ দিয়ে মেয়র বলেন, ‘পানি জমে থাকা জায়গায় কোরবানি করলে পানিতে রক্ত এবং ময়লা-আবর্জনা জমে পরিবেশ নষ্ট করে; দেখতেও খুব খারাপ লাগে।’

অন্যদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ সালাহ উদ্দিন মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন। এদিকে কোরবানির ঈদের বর্জ্য অপসারণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এবারো ঈদের দিন বিকাল ৪ টার মধ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে গতকাল রোববার দুপুরে এ লক্ষ্যে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী একথা জানান। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণ বর্জ্য অপসারণে তাদের মতামত, লোকবল ও গাড়ির চাহিদা ও পরিকল্পনার কথা সভায় তুলে ধরেন। ৪১টি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজাররা বর্জ্য অপসারণে তাদের কাজের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ওয়াকিটকি, গাড়ি, টমটম গাড়ি, বেলছা, ঝাড়–, হুইল ভেরু’র চাহিদার কথা উল্লেখ করে তা সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্পোরেশনের সামর্থ্যরে মধ্যে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবার চারটি জোনে বিভক্ত হয়ে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করবে। আর এ কাজের জন্য কর্পোরেশন ৫ হাজার জন শ্রমিক, ৩৫০টি গাড়ি, পশু জবাইকৃত স্থানে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর ব্যবস্থা করেছে।

"