ট্রাফিক ব্যবস্থার ত্রুটি খুঁজতে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গণপরিবহন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ত্রুটি খুঁজতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের দলের সদস্যরা সড়ক ও বিভিন্ন মোড় সরেজমিন ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে তারা সড়ক পরিদর্শন শুরু করেন। পরিদর্শনকালে দলটি উত্তরা থেকে বিমানবন্দর হয়ে দক্ষিণ সিটির নগর ভবন পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক সরেজমিন ঘুরে দেখেন।

কর্মকর্তারা আবদুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ ও টিএসসি হয়ে দক্ষিণ নগর ভবনে যান। সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শনকালে এসব এলাকার সব আন্ডারপাস ও ফুটওভার ব্রিজ ঘুরে দেখবেন কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে সড়ক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ত্রুটি চিহ্নিত করা হবে। সাবেক মেয়র প্রয়াত আনিসুল হকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২টি ইউলুপ নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতাও যাচাই করবে পরিদর্শক দল।

পরিদর্শনকারী দলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমান ও মহাপরিচালক-১ গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমান এই পরিদর্শন কাজ সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে রাজধানীর গণপরিবহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের উপপরিচালক (সক্ষমতা বিকাশ) মোহাম্মদ আলী নেওয়াজ রাসেল কিনোট উপস্থাপন করেন।

সভায় চলাচলের সময় সব গণপরিবহনের দরজা বন্ধ রাখা, নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী উঠানামা বন্ধ করা, বাসের ভেতর চালক ও হেলপারের বৃত্তান্ত প্রদর্শন, দূরপাল্লার বাসে চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্টের ব্যবস্থা রাখা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বয়ংক্রিয় ও রিমোট কন্ট্রোলড অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। বৃহস্পতিবারের সভা থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে করণীয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলো অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং যানজট নিরসনে এর আগে গৃহীত পদক্ষেপগুলো গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট আবার বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বরাবর উপস্থাপন করবে। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি), বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ স্কাউট, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন এবং শিক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

"