পশু জবাইয়ের সরঞ্জামের দোকানে ক্রেতারা

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

আর মাত্র চার দিনের মাথায় ত্যাগের ঈদুল আজহা। পশু কোরবানি দিতে মাংস কাটা, চামড়া ছাড়ানোসহ বিভিন্ন কাজে প্রয়োজন ছুরি, চাকু, দা, চাপাতি, বটি, গাছের গুঁড়িসহ কত কি। ফলে হাট থেকে আগেভাগেই পশু কিনে ফেলেছেন এমন ক্রেতারা ছুটছেন পশু জবাইয়ের এসব সরঞ্জামের দোকানে। ক্রেতাদের পদভারে এসব দোকানে রীতিমতো ভিড় লেগে গেছে। দরদাম করেই ক্রেতারা কিনছেন। আবার শহরের বাইরে বিভিন্ন গ্রাম থেকেও লোকজন চাকু, চাপাতিসহ নানা সরঞ্জাম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ঈদের দিন দুয়েক আগে ক্রেতাদের উপস্থিতি আরো বাড়বে। তখন বিক্রি পুরোমাত্রায় জমে ওঠবে বলেই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট বিকেলে শহরের কোরবানির পশু জবাইয়ের সরঞ্জামের বাজার হিসেবে পরিচিত স্বদেশি বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেল এমন চিত্র।

এই বাজারের সালাম স্টোরের স্বত্বাধিকারী আবদুস সালাম জানান, ঈদের দিন কয়েক আগে প্রতিবারই কাক্সিক্ষত পশু কেনার পর সবাই এসব উপকরণ সংগ্রহ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পশু কোরবানি থেকে শুরু করে চামড়া ছাড়ানো পর্যন্ত এসব অনুষঙ্গের কোনো বিকল্প নেই।

প্রায় ২৩ বছর যাবৎ এই বাজারেই ছুরি-দা-চাপাতির ব্যবসা করেন স্বপন ভট্টাচার্য্য। পঁয়ত্রিশের কোঠায় বয়স। তার দোকানের নাম কমলা স্টোর। দাদা-বাবার পর বংশ পরম্পরায় এই পেশায় নিজেও জড়িয়ে পড়েন শৈশবেই। স্থানীয় কামারদের পাশাপাশি মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ব্রাক্ষণবাড়িয়া ও বগুড়া থেকে এসব সরঞ্জাম পাইকারি দামে কিনে আনেন। আলাপচারিতায় স্বপন বলেন, ঈদকে টার্গেট করে প্রতি বছরই কয়েক হাজার চাপাতি, দা-ছুরি পাইকারি দামে বাইরের কামারদের কাছ থেকে অর্ডার দিয়ে কিনে আনি। এর সঙ্গে কুড়াল, বটিও রয়েছে। ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকে ক্রেতাদের ছুটোছুটি শুরু হয়। এবার বিক্রি আরো জমে উঠবে।

বাজার ঘুরে দেখা গেলো, পশু জবাইয়ের প্রতিটি সরঞ্জামের দাম গত বছরের তুলনায় এবার একটু বেশিই। ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চাপাতি, ২০০ থেকে ৮০০ টাকায় বটি, ১২০ থেকে ৩০০ টাকায় দা, ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় ছোট-বড় ছুরি ও ৪০ থেকে ৮০ টাকায় চাকু বিক্রি হচ্ছে।

 

"