এগিয়ে চলছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

বশিরুল ইসলাম
ama ami

আধুনিক কৃষি শিক্ষার মাধ্যমে দেশের কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউটের রূপান্তর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৩৮ থেকে পথচলা এ প্রতিষ্ঠানটি অদ্যাবদি নিরবচ্ছিন্ন গতিতে সৃষ্টি করে চলছে একের পর এক অমর কাব্য। জাতির দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের অন্নদান, কৃষিশিক্ষা পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছে বিশ্বিবিদ্যালয়টি।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় তথা অবকাঠামোগতভাবে উন্নত, একাডেমিকভাবে আধুনিক ও গবেষণাবান্ধব করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একজন দক্ষ, সৎ একাডেমিশিয়ান ও সর্বোপরি নিবেদিত প্রাণ দেশ প্রেমিক উপাচার্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তেমনি এক উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ। শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোসহ সব বিষয়ে সেন্টার অব এক্সিলেন্স করে গড়ে তুলতে দক্ষ হাতে পরিচালনা করে চলছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ। তিনি বিশ্বাস করেন ‘শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে উন্নত আধুনিকতম বিশ^বিদ্যালয়, এ প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ’। উপাচার্য হিসেবে ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের কাজ করে চলছেন।

অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ ভুট্টা, গম, ধান, ডাল ও তেল ফসলের ওপর বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, ইউরোপিয়ান কমিশন, ইউএস এইড, বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৭টি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন। আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ৪০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সাময়িকীতে অনেক প্রবন্ধ লিখেছেন। যোগদান করার পরই ফিশারিজ অ্যান্ড একোয়াকালচার অনুষদ এবং এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদ থেকে কৃষি অর্থনীতি ডিগ্রি চালু করেন।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নে একনেকে ৩৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পটি শেষ হলে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। আধুনিক ড. ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গেেবষণাগার স্থাপিত হয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রায় শ’ খানেক আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণা চলছে। প্রতি বছরই বিদেশি ছাত্র সংখ্যা বাড়ছে। পুরো ক্যাম্পাস ওয়াইফাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। অত্যাধুনিক ই-লাইব্রেরি গড়ে তোলা হয়েছে। ই-বুক সিস্টেমে চলে যাচ্ছে পুরো গ্রন্থাগার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দেশের নানা সমস্যা সমাধানের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও নিরাপদ খাদ্য চাষের উপায় নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করার জন্য ছাদ বাগান নিয়ে চলছে ব্যাপক গবেষণা। সুন্দরবনের সকল ধরনের প্রাণীর জেনেটিক বার কোড নির্ণয় ও বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবনসহ আন্তর্জাতিক মানের মৌলিক ও ফলিত গবেষণা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এমএস এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীরা গবেষণা করছে এবং শিক্ষকরা তাদের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছে। শিক্ষকদের ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই গবেষণা কর্মকান্ডের কয়েকটি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকিগুলো সমাপ্তির পথে রয়েছে। পাইপলাইনে আরো কতকগুলো গবেষণা কর্মপরিচালনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণে শিক্ষকদের বাইরে যাচ্ছেন এবং ডিগ্রি নিয়ে ফিরে আসছেন, ফলে একাডেমিক পরিবেশ ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে।

ধীরে ধীরে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এরই মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ বেশকিছু বিদেশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা প্রকল্পও শুরু হয়েছে। আরো কিছু নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে আলোচনা চলছে।

"