রাজধানীতে আসছে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম : খোকন

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম (আইটিএস) চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থা অনেক আগ থেকেই নাজুক। এই অবস্থা থেকে মুক্তি প্রয়োজন। এ জন্য আমরা জাইকার অর্থায়নে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। গতকাল রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ডিএসসিসির নির্মল বায়ু ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প (কেস) আয়োজিত ‘ক্লিন অ্যান্ড সেইফ মোবিলিটি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএসসিসি আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক রাকিবুর রহমান, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ ও ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালসহ কর্মকর্তারা।

‘আমাদের পথ, আমাদের হাতেই নিরাপদ’ শীর্ষক সেøাগানে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম সম্পর্কে মেয়র বলেন, জাইকার অর্থায়নে মহানগরীর চারটি ইন্টারসেকশনে অর্থাৎ গুলিস্তান (ফুলবাড়িয়া), পল্টন, মহাখালী ও গুলশান-১ এ ভেহিকুলার ইমেজ ডিটেক্টর ভিডিও ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে চলন্ত গাড়ির সংখ্যা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা এবং পৃথক লেন অনুসরণ করে গাড়ি চালানোর পাইলট প্রকল্পের কাজ চলছে বলেও জানান মেয়র।

সাঈদ খোকন বলেন, সড়কের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করপোরেশনের গৃহীত পদক্ষেপ অপ্রতুল হলেও করপোরেশন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জরুরি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো হচ্ছে নিরাপদ সড়ক সৃষ্টি করা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, রাস্তার পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে উৎসাহিত করা, বিনা প্রয়োজনে হর্ন বাজানোকে নিরুৎসাহিত করা, পথচারী চলাচলে ফুটপাত ব্যবহার করা, লেন মেনে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী উঠা নামা না করে নির্ধারিত স্টপেজে গাড়ি থামানো, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি ব্যবহার বা কালো ধোঁয়া নির্গত থেকে বিরত থাকা।

মেয়র বলেন, আমরা কেস প্রকল্পের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ৯২টি সড়ক ইন্টারসেকশনে জেব্রা ক্রসিং, লেন সেপারেটর ডট বা সলিড রোড মার্কিং স্থাপন ও ২৯৪টি পথচারী পারাপার নির্মাণসহ ৬০০টি ট্রাফিক সাইন লাগাব। আমাদের সেøাগান হচ্ছে ‘আমাদের পথ, আমাদের হাতেই নিরাপদ’।

তিনি আরো বলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ পেলে ফুটপাত দখলমুক্ত করা কোনো ব্যাপার না। সাত মাস অনেক প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়ে ঠিক রেখেছি। আমরা স্থায়ীভাবে কিছু পুলিশ ফোর্স চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করব। এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় স্থানে অব্যবহৃত ফুটপাত সরিয়ে জন সমাগম সমৃদ্ধ স্থানে স্থাপন করা হবে।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, শুধু সচেতনতামূলক কার্যক্রম করলেই নিরাপদ সড়ক পাওয়া যাবে না, যদি না আইনের সঠিক প্রয়োগ হয়।

এ সময় তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, গণমাধ্যমে আসে এত বোতল ফেনসিডিল রোলার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কখনো কি শোনা গেছে ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য এত মোটরসাইকেল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে? অর্থের হিসেবে দুটোই তো মূল্যবান।

নিজের বাস্তব জীবনের উদাহরণ টেনে স্থপতি মোবাশ্বের বলেন, একদিন আমার বন্ধুর ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডধারী গাড়ি নিয়ে বের হলাম আর চালককে বললাম এক ঘণ্টা সব ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে চালাবে। আমি অবাক হয়ে দেখলাম ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলেও ট্রাফিক পুলিশ স্যালুট দিচ্ছে। তাই আমি বলব, সয গাড়ির ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড নামিয়ে ফেলার। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে ছয় মাসের মধ্যে যানজট নির্মূল করা সম্ভব।

"