বরিশালে সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট

অপেক্ষার শেষ : বিশুদ্ধ পানি পেতে যাচ্ছে নগরবাসী

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

বরিশাল প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিল পরিশোধ নিয়ে সমস্যার কারণে গত তিন বছর ধরে চালু না হওয়া বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা শেষে নগরবাসী পেতে যাচ্ছে বিশুদ্ধ পানি।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বেলতলা এলাকার এই প্লান্ট থেকে নগরবাসীর মাঝে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে বরিশাল সিটি কপোরেশন। ইতোমধ্যে প্লান্টটি নিজেদের দায়িত্বে নিয়েছে নগর ভবন কর্তৃপক্ষ। প্লান্টটির দায়িত্ব নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে পানি বিশুদ্ধকরণ ও সরবরাহ কাজ করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল সিটি কপোরেশনের বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান। তিনি বলেন, কীর্তনখোলা নদীর তীরের বেলতলা ও রূপাতলী এলাকায় নির্মিত হয়েছে দুইটি সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এরমধ্যে বেলতলার প্লান্টটির দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। রূপাতলীর প্লান্টটি ত্রুটিমুক্ত না হওয়ায় নির্মাণ বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কাজ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, নগরের বেলতলায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের মধ্যে এক সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ প্লান্টটি হস্তান্তর হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান ও তিনিসহ (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

প্লান্টটির দায়িত্ব নেওয়ার পর পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ও সরবরাহের পাইপ লাইনের ত্রুটি চিহ্নিতকরণের জন্য পরীক্ষার কাজ চলছে। এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পানি সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নগরবাসী পাচ্ছে কীর্তনখোলা নদী থেকে পানি এনে বিশুদ্ধ করা পানি। বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ও প্লান্টের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ নিয়ে জটিলতা অবসান হয়েছে। ছয় মাসের বিদ্যুৎ বিল নগর ভবন পরিশোধ করবে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর প্লান্টটির দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের অর্থায়নে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণ ২০১২ ও ২০১৩ সালে নগরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতে কীর্তনখোলা নদীর তীরে দুটি সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

নগরের উত্তরাংশের বেলতলা এলাকায় নির্মিত প্লান্টটির ব্যয় ১৯ কোটি এবং নগরীর দক্ষিণাংশের রূপাতলীরটি ২৪ কোটি টাকা নির্ধারিত ছিল। নদী ভাঙনসহ নানা কারণে বেলতলার প্লান্টের নির্মাণ ব্যয় ২৭ কোটিতে গিয়ে পৌঁছায়। এ প্লান্ট থেকে দৈনিক এক কোটি ষাট লক্ষ লিটারসহ দুইটি থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি নগরবাসীর মাঝে সরবরাহের জন্য ২০১৫ সালের জুন মাসে উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তুর নগর ভবনের কাছে কয়েক কোটি টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত নতুন করে সংযোগ দেওয়া বন্ধ রাখে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকো। এতে দীর্ঘ তিন বছর ধরে প্লান্ট দুইটি বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি। এ ছাড়াও প্লান্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর বিল পরিশোধ নিয়েও নগর ভবনের সঙ্গে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের জটিলতা তৈরি হয়। তাই তিন বছর ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল প্লান্ট দুইটি। প্লান্ট দুইটি চালুর জন্য জেলা প্রশাসক, নগর ভবন, বিদ্যুৎ বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দফতরের মধ্যে দীর্ঘ চিঠি চালাচালির পর সমঝোতার মাধ্যমে চালু হচ্ছে একটি প্লান্ট। খুব শিগগিরই রূপাতলীর প্লান্টটিও চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের পানির সমস্যার সমাধান হচ্ছে। এদিকে, নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণে নির্মিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দ্রুত বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, নগরবাসী ২৪ ঘণ্টা যাতে বিশুদ্ধ পানি পায় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"