ইপনার জরিপ

প্রতি হাজারে অটিজম শিশু ১.৭

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ১৬ থেকে ৩০ মাস বয়সী শিশুদের মাঝে অটিজম বিস্তারের হার প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৭ জন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা) কর্তৃক দেশব্যাপী শিশুর ওপর পরিচালিত জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালের মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের ৮টি বিভাগের ৩০টি জেলার ৮৫টি এলাকা চিহ্নিত করে ৩৮ হাজার ৪৪০ জন শিশুর ওপর এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ব্লক অডিটরিয়ামে ইপনার আয়োজনে ডিসেমিনেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে জরিপে প্রাপ্ত ফল প্রকাশ করা হয়।

জরিপে দেখা গেছে, গ্রামের চেয়ে শহরে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুর সংখ্যা বেশি। গ্রামীণ এলাকায় প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৪ জন, শহর এলাকায় প্রতি হাজারে ২ দশমিক ৫ জন আক্রান্ত পাওয়া যায়। জরিপে প্রাপ্ত ফলে আক্রান্ত মেয়ে শিশুর চেয়ে ছেলে শিশুর সংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ বেশি দেখা যায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ডিসেমিনেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, আইসিডিডিআর, বির উপনির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপারসন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ শিকদার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জরিপে প্রাপ্ত ফল উপস্থাপন করেন ইপনার পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহীন আখতার। জরিপ নিয়ে প্রারম্ভিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইপনার ডা. জান্নাত আরা শেফা।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ইপনা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সুযোগ্য কন্যা, অটিজম বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারের সেবায় ইপনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় পাশে থাকবে। সব ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, ইপনা তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অটিজম ও অন্যান্য স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় সেবা ও পরামর্শ দেবার পাশাপাশি উচ্চতর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

"